বরিশালে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ডিবি পুলিশের ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত হচ্ছে

বরিশাল টুডে ॥ ব্যবসায়ীদের ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে  ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মাসুম ও তার টিমের ৩ সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তে শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিএমপি’র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার আতিকুর রহমান মিয়াকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা গতকাল সিটিএসবির সদস্য বাশারের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ৩ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে আপোষ নিস্পত্তির চেষ্টা চালাচ্ছেন।

সোমবার সকালে ঢাকাগামী জলযান বে-ক্রুজের তিন যাত্রীকে ডিবি’র ইন্সপেক্টর মাসুম, এএসআই রফিক, কনস্টেবল শান্ত ও সাইদ আটক করে। তাদের কাছে থাকা ১২ লাখ টাকা প্রথমে হাতিয়ে নেয়া হয়। তারপর হুন্ডি ব্যবসা সহ নানান অভিযোগ উত্থাপন করে তাদেরকে অস্ত্র ও মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বাকী টাকা সহ ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি ডিবি’র মাঠ পর্যায়ের অপর সদস্যদের অবহিত করেন। এক পর্যায়ে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কানে পৌছলে ৪ সদস্যকে উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে তলব করা হয়। সেখানে উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) সোয়েব আহমেদ জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে অভিযুক্ত ৪ পুলিশ সদস্য ব্যবসায়ীদের আটক করে ছেড়ে দিলেও ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা অস্বীকার করেন। এ ব্যাপারে ডিবি’র এসি রিয়াজ হোসেনের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি প্রথমে মিটিংয়ে থাকার কথা জানান। পরবর্তীতে আর ফোন রিসিভ করেননি। উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) সোয়েব আহমেদকে ফোন করা হলে তিনিও মিটিংয়ের কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে অভিযোগকারীদের নাম জানতে চান। অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে সোয়েব আহমেদ পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কমিশনারের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। গভীর রাত পর্যন্ত অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ও অভিযোগকারী ব্যবসায়ীদের নিয়ে পুলিশ কমিশনার বৈঠক করেন। তার সেল ফোনে ফোন করা হলে রিসিভ করেননি।

তবে মঙ্গলবার পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আতিকুর রহমান মিয়াকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এডিসি আতিকুর রহমান মিয়া তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।