বরিশালে শেবাচিম হাসপাতালে টয়েলেটের পাইপ ভেঙ্গে উদ্ধার হওয়া নবজাতক সুস্থ রয়েছেন

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) টয়লেটের পাইপ কেটে উদ্ধার হওয়া নবজাতক সুস্থ রয়েছেন। হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি শিল্পী বেগম ও তার স্বামী নেয়ামত উল্লাহ জানান, পৌনে দুই ঘন্টা চেষ্টার পর টয়লেটের পাইপ ভেঙে মেয়ে সন্তানকে উদ্ধারের পর সে বেঁচে আছে এটাই অনেক কিছু। নবজাতক কন্যার চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে সোমবার জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এইচ এম সাইফুল। তিনি বলেন ৪০ সপ্তাহের বাচ্চা প্রসবের কথা থাকলেও বাচ্চাটি আগে প্রসব হয়েছে। যে কারনে শারিরীক ভাবে বাচ্চাটি ততটা শক্তিশালী নয়। বাচ্চাটিকে সু-চিকিৎসার সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। পাইপের মধ্যে দীর্ঘ সময় বাচ্চাটি বেঁচে রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো ভাবে অক্সিজেন পেয়েছিলো নবজাতকটি। যে কারনে বেঁচে ছিলো। হাসপাতালের নবজাতক শিশুর বিশেষ সেবা ইউনিটের (স্ক্যানু) প্রধান ডা. এমআর তালুকাদার মুজিব জানান, রবিবার জন্ম নেয়া বাচ্চাটি প্রি ম্যাচুয়ের। সময়ের আগেই প্রসব হওয়ায় ওজন হয়েছে এক কেজি ৩শ’ গ্রাম, যেখানে স্বাভাবিক বাচ্চার ওজন থাকে প্রায় আড়াই কেজি। স্ক্যানু বিভাগে নবজাতকের চিকিৎসা চলছে। এমনিতে নবজাতকটির সব কিছু ঠিকঠাক রয়েছে, কোনো সমস্যা দেখছি না।
এদিকে এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে বিষয়টি বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার এর নজরে আসলে তার নির্দেশনায় গতকাল সোমবার দুপুরে সহকারী কমিশনার এনডিসি সুব্রত বিশ্বাস দাস নবজাতকের পরিবারের হাতে হাসপাতালের সমাজসেবার পক্ষ থেকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রবেশন অফিসার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বরিশাল সাজ্জাদ পারভেজ, মহানগর প্রবেশন অফিসার শ্যামল সেন গুপ্ত, হাসপাতাল সমাজসেবা অফিসার মোঃ হুমায়ন কবির।