বরিশালে সাংবাদিকদের সাথে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মত বিনিময় সভা

দিন দিন বরিশালে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ফলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে শয্যার সংকট দেখা দিয়েছে। তাই বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতালকে ১শ’ শয্যার বিশেষায়িত করোনা হাসপাতালে পরিনত করা হয়েছে। এই হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ করে রোগীদের পাঠানো হচ্ছে শের-ই-বাংলা মেডিকেলের সাধারন ওয়ার্ডে।
এদিকে করোনা উপসর্গ ও আক্রান্ত গর্ভবতী এবং দুগ্ধদায়ী মায়েদের জন্য বরিশাল নগরীর কালীবাড়ি রোডের মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে ২০ শয্যার বিশেষায়িত করোনা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
অপরদিকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালও বিশেষায়িত করোনা হাসপাতালে পরিনত করার জন্য মন্ত্রনালয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকারের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঐ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউজের ধানসিড়ি হলে সাংবাদিকদের সাথে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের এক মত বিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, বরিশাল বিভাগের বাইরের বাগেরহাট, মাদারীপুর, শরীয়তপুর এবং গোপালগঞ্জ থেকেও শের-ই-বাংলা মেডিকেলে রোগী পাঠানো হচ্ছে। ঐসব জেলায় করোনা চিকিৎসার পরিধি বাড়ানো হলে শেবাচিম হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে। একই সাথে বিত্তবানদের জন্য নগরীর একটি বেসরকারী হাসপাতাল করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল করা হলে শেবাচিমে রোগীর চাপ কিছুটা হলেও কমবে।
বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, জেনারেল হাসপাতালে জনবলে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও ১শ’ রোগীর চিকিৎসা দেয়ার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন। সেখানে ১শ’ রোগীকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। জেনারেল হাসপাতালে শিঘ্রই ৫ শয্যার একটি আইসিইউ ইাউনিট করার চেস্টা চলছে বলে তিনি জানান।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, উপসর্গহীন অনেক ব্যক্তি নিজের অজান্তে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের মাধ্যমে অন্যরা আক্রান্ত হচ্ছেন। এ কারনে করোনা প্রতিরোধের জন্য সবাইকে মাস্ক পরিধান, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা, বারবার স্যানিটাইজার মাখা এবং সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার, শের-ই-বাংলা মেডিকেলের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মো. মনোয়ার হোসেন সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বুধবার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ৩শ’ শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি রয়েছে ৩৪৯ জন। বিগত ২৪ ঘন্টায় এই ওয়ার্ডে মারা গেছে ১৫ জন রোগী।