বরিশালে সাবেক কাউন্সিলর গুলজারকে কারাগারে প্রেরণ

বরিশাল টুডে ॥ বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) ১১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল আলম গুলজারকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে নগরীর কাটপট্টিতে তার নিজের আবাসিক হোটেল এ্যাথেনা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

বরিশাল ক্লাবের সেক্রেটারী মো. জাকরিয়া মান্নাকে হত্যা চেষ্টা ও লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির হিসাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে দুটি মামলা করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
কোতয়ালী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এস.আই গোলাম কবির জানান, শনিবার রাতে বরিশাল ক্লাবে প্রবেশ করে সেক্রেটারী মো. জাকরিয়া মান্নাকে কর্মচারীদের সামনে গালিগালাজ করেন গুলজার। মান্নাসহ অন্যান্য কর্মচারীরা এর প্রতিবাদ করলে সাথে থাকা লাইসেন্স করা এনপিবি রিভলবার দিয়ে তিনি (গুলজার) দুই রাউন্ড গুলি করেন।
এ ঘটনায় জাকরিয়া মান্না রবিবার রাতে কোতয়ালী মডেল থানায় গুলজারকে আসামি করে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। সেই মামলার আসামি হিসেবে তাকে প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তাঁর লাইসেন্সকৃত রিভলবার ও পয়েন্ট ১২ বোরের শর্টগান ও গুলি দেখতে চাওয়া হয়। এ সময় গুলজার তাঁর নামে ইস্যুকৃত রিভলবারের ৫০টি গুলির মধ্যে ৪০ ও শর্টগানের ৪৫ কার্তুজের মধ্যে ১৬ রাউন্ড প্রদর্শন করেছেন। নিজ নামে ইস্যুকৃত গুলি প্রদর্শনে ও খরচের হিসাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এসআই আবু তাহের বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে অপর একটি মামলা করেন।

এদিকে সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল আলম গুলজারকে আটক করার পেছনে মহানগর আ’লীগের এক শীর্ষ নেতার ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার অনুসারীরা। গুলজার ও সেই আ’লীগ নেতার বাসা একই এলাকায় হওয়ায় এনিয়ে নগরীর বাংলাবাজার ও আলেকান্দায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, প্রথম শ্রেনীর ঠিকাদার ও বরিশাল জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব শফিকুল আলম গুলজার নগরীর আলেকান্দা এলাকার মৃধাবাড়ীর মৃত আব্দুল মাজেদ খলিফার ছেলে ও র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর যুবদল নেতা মেহেদীর বড় ভাই। গুলজার ১১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে টানা বেশ কয়েকবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে গত সিটি নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দিতা করেননি। বরিশাল নগরীতে ‘এরিনা’ ও ‘অ্যাথেনা’ নামে তাঁর দুটি বিলাসবহুল আবাসিক হোটেল রয়েছে।