বরিশালে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা ॥ সহপাঠী কর্তৃক গণধর্ষণের শিকার

বরিশাল টু-ডে ॥ সদর উপজেলার দিনারে পুল এলাকায় শিলা (১৬) নামের এক স্কুল ছাত্রী অত্মহতা করেছে। সে স্থানীয়  তালুকদার  হাট স্কুল এ্যান্ড কলেজের ৯র্ম শ্রেনীর ছাত্রী ও হারুন হাওলাদারের এক মাত্র কন্যা। সহপাঠী ছাত্র কর্তৃক গনধর্ষন ও মোবাইলে নগ্ম ছবি ধরনের লোক লজ্জার ভয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবার অভিযোগ করেছ। স্থানীয়দের দাবীর মুখে থানা পুলিশ শনিবার রাতেই সাব্বির হোসেন নামের এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে আটক করেছে। অপরদিকে রবিবার সকালে শেবাচিমের ফরেনসিক বিভাগে নিহত ছাত্রীর লাশের ময়না তদন্ত সম্পূন্ন হয়েছে।
চানপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ ইউসুফ হোসেন জানান, চানপুরা এলাকার গরুর দুধ বিক্রেতার হারুন হাওলাদারের কন্যা শিলা আক্তার (১৬) তার নানা আঃ রশীদ হাওলাদারের দিনারের পুল এলাকার বাড়ীতে থেকে তালুকদার হাট স্কুল এ্যান্ড কলেজে ৯ম শ্রেনীতে (ভকেশনাল বিভাগ) লেখাপড়া করে। শনিবার সকালে শিলা ও তার সহপাঠী জান্নাতসহ ৪/৫ জন ছাত্রী স্থানীয় গজনীর দিঘিতে বেড়াতে যায়। শিলার পিতা হারুন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, দিঘিতে বেড়ানো শেষে বাড়ী ফেরার পথে সহপাঠী ছাত্র সাব্বির হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য আলি আজিম খানের ছেলে তানভির, লাল তালুকদারের ছেলে হৃদয়, শাহজাহানের ছেলে রুবেল, খোকন খানের ছেলে মারুফ ও মেহেদীসহ ৮জন কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় ৩ যুবক মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিু চিত্র ধারণ করে।
এদিকে ক্লাস ফাকি দিয়ে বেড়াতে যাওয়ার কথা শুনে ছাত্রী শিলা ও জান্নাতকে ধরে আনতে একাধিক ছাত্রকে গজনীর দিঘির পাড়ে পাঠায় কলেজ অধ্যক্ষ ফরিদুর আলম জাহাঙ্গির। ছাত্ররা শিলা ও জান্নাতকে না পেয়ে ওদের বই-খাতা ে উপস্থিত বখাটে যুবকদের কাছ থেকে মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও চিত্র উদ্ধার করে কলেজ অধ্যক্ষের নিকট জমা দেয়।
শিলার চাচা মঞ্জু হাওলাদার জানান, স্কুল ছাত্রী শিলা (১৬) লোক লজ্জার ভয়ে নানা বাড়ী দিনাররে পুল এলাকায় যেয়ে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে শিলার মা নিলুফা বেগম শিলাকে ঝুলাত অবস্থায় উদ্ধার করে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় ওই দিনই দুপুরে শিলাকে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। শিলা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সাথে পাঞ্চা লড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুর ২ টায় মারা যায়।
অন্যদিকে এ ঘটনা ওই এলাকায় ছড়িয়ে পরলে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তারা স্থানীয় বন্দর থানায় অভিযোগ দিলে রাতেই কবির হোসেন মহুরীর ছেলে সাব্বিরকে থানা পুলিশ আটক করে। এ ঘটনার অধ্যাক্ষসহ শিক্ষকরা ও অভিভাকদের প্রতিনিধিরা এবং স্থানীয় থানা পুলিশ একটি বৈধকে বসেন। বৈঠক শেষে কলেজ অধ্যক্ষ ফরিদুর আলম জাহাঙ্গির জানান, ওই ছাত্রী ক্লাস ফাকি দিয়ে বেড়াতে যাওয়ার ঘটনায় ওর বই-খাতা জদ্দ করা হয়। পরে বই-খাতা ছাড়া ক্লাস সময়ে বাড়ীতে যাওয়ায় তার বাবা-মা তাকে গালমন্দসহ মারধর করে। এ কারনে সে অভিমান করে গলায় ফাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে তিনি ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন নি।
শিলার মা নিলুফা বেগম জানান, গন ধর্ষণের কথা স্বিকার করে বলেন এ বিষয়ে তার পরিবার কলেজ অধ্যক্ষের সাথে বৈঠকে বসে স্বিধান্ত নিবেন। তবে তারা থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করবেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পরিবারের দাবীর সাথে অনেকাংশে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ফরেনসিক রির্পোটের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা যাবে।
শেবাচিম ফরেনসিক বিভাগের একটি সূত্রে জানাগেছে, শিলা ধর্ষণ হয়েছে তা নিশ্চিত। তবে গনধর্ষণ কিনা তা বোঝা যাচ্ছে না।  পাশাপাশি এখনো নিশ্চিত নয় সে কবে এ ধর্ষণের শিকার হয়েছে।