বরিশালে হরতালে শিবিরের মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরন ॥ যানবাহনে ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ ॥

বরিশাল টু-ডে ১৮ দলের ডাকা হরতালে বরিশালে গাছের গুড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মিরা, এ সময় দুটি মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে হরতাল সমর্থকরা। সকালে মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি আবদুল্লাহ আল নাহিয়ানের নেতৃত্বে নগরীর বিএম স্কুল সড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পিকেটিং করে শিবির নেতাকর্মিরা। ভোর সোয়া ৪টায় নগরীর বিএডিসি এলাকায় মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করে জামায়াত-শিবির। ভোর সাড়ে ৪টায় নগরীর সাগরদী মাদ্রাসা এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে জামায়াত-শিবিরের আরেকটি দল। এ সময় মহাসড়কের পাশে মোটর গ্যারেজের সামনে রাখা দুটি মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে তারা। ভোর পৌঁনে ৫টায় নগরীর কাউনিয়া বিসিক এলাকায় গাছের গুড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে জামায়াত-শিবির। এছাড়া বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের উজিরপুরের ইছলাদিতে গাছ ফেলে পিকেটিংয়ের সময় ক্ষতিগ্রস্থ বেশ কিছু যানবাহন বরিশাল নগরীতে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
সকাল সোয়া ৬টায় নগরীর বগুড়া রোড পেশকার বাড়ী এলাকা থেকে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি’র নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়ে সদর রোডের দলীয় কার্যালয়ের দিকে যেতে থাকলে বাঁধা দেয় পুলিশ। বাঁধা অতিক্রম করে মিছিলটি কিছুদুর অগ্রসর হলে সরকারী বালিকা বিদ্যালয় (সদর গার্লস) মোড়ে পুলিশ তাদের আটকে দিলে নেতাকর্মীরা রাস্তায় বসে পড়ে। এ সময় সেখানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তৃতা করেন মহানগর বিএনপির  কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোঃ মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি, মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহিন, জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া, প্যানেল মেয়র আলতাফ মাহমুদ সিকদার, কাউন্সিলর মীর জাহিদুল কবির, ছাত্রদল নেতা খন্দকার আবুল হাসান লিমন ও মাসুদ হাসান মামুন প্রমূখ। একই সময়ে নগরীর বিএম স্কুল রোডে হরতালের সমর্থনে একটি ঝঁটিকা বিক্ষোভ মিছিল বের করে মহানগর ছাত্রশিবির। এ সময় আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ এবং ৪টি ককটেলের বিস্ফোরন ঘটায় তারা।
সকাল সোয়া ৭টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্ত্বর থেকে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে জেলা বিএনপি। সভাপতি আহসান হাবিব কামাল এবং সাধারন সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের নেতৃত্বাধীন মিছিলটি সদর রোডের দিকে যেতে চাইলে ফজলুল হক এভিনিউ জেলা জজ আদালত এলাকায় আটকে দেয় পুলিশ। এ সময় সেখানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে চলে যাওয়ার সময় পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে এবং আলেক নামে এক বিএনপি কর্মীকে আটক করে। পরে বিএনপি বিক্ষুব্দ কর্মীরা সংবাদপত্রবাহী একটি মাইক্রোবাস ভাংচুর করে। এছাড়াও নগরীরা বাকলার মোড়ে একটি ট্রাক সহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে হরতাল সমর্থকরা।
বরিশাল থেকে অভ্যন্তরীন এবং দুরপাল্লা রুটের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নগরীর অভ্যন্তরে কিছু রিক্সা ও অটো রিক্সা চলাচল করলেও তুলনামূলক সংখ্যা কম। বন্ধ রয়েছে নগরীর বেশীরভাগ দোকানপাট।
যে কোন ধরনের নাশকতা এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় নগরীর বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন ছাড়াও টহল দিচ্ছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং র‌্যাব।