বরিশালে হেফাজতে ইসলামের প্রস্তুতি সভায় বক্তারা সব বাধা পেরিয়ে আমরা লংমার্চ সফল করবোই

আর.এম মাসুদ ॥ বরিশালে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় বক্তারা বলেন, নাস্তিক-মুরতাদ ছাড়া অন্য কেউ শুক্রবার হরতাল দিতে পারে না, ঘাদানিকদের সকল বাধা পেরিয়ে আমরা ঢাকায় আগামি ০৬ এপ্রিলের শান্তিপূর্ন লংমার্চ কর্মসূচী সফল করবোই। ইতোমধ্যেই বরিশাল থেকে হেফাজতে ইসলামের শত শত নেতাকর্মি ঢাকায় পৌছে গেছে বলে মন্তব্য করেন তারা। ০৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বরিশাল নগরীর মাহমুদিয়া মাদ্রাসায় আয়োজিত লংমার্চের প্রস্তুতি সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, আমাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয় বরং নাস্তিক মুরতাদদের বিরুদ্ধে। তাই সরকারের উচিত হবে লংমার্চে বাঁধা না দেয়া। এরপরও যদি সরকার লংমার্চে বাঁধা দিয়ে নাস্তিক মুরতাদদের পক্ষাবলম্বন করে তবে এ সরকারকে নাস্তিক-মুরতাদ সরকার বলে ঘোষণা দেয়া হবে এবং তৌহিদি জনতা এ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে। সরকারের উদ্দেশ্যে বক্তারা বলেন, নাস্তিক মুরতাদরা হলো কালসাপ, দুধ কলা দিয়ে এদের পুষবেন না, এরা একদিন আপনাদেরকেও ছোবল মারতে দ্বিধা করবে না।
প্রস্তুতি সভায় বরিশাল হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব বলেন, সরকারের ছত্রছায়ায় লালিত-পালিত ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি-ঘাদানিক সহ কয়েকটি বাম সংগঠন আমাদের ০৬ এপ্রিলের লংমার্চ প্রতিহত করতে শুক্রবার হরতাল ডেকেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে শুক্রবার হরতাল দেয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। এদিন ইসলামের স্বপক্ষের দাবির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে এবং হরতাল দিয়ে তারা নিজেরাই প্রমান করলো যে, এরা আসলেই নাস্তিক এবং মুরতাদ।
হেফাজতে ইসলামের অন্যতম সংগঠক ও জামে এবায়দুল্লাহ মসজিদের খতিব মাওলানা মির্জা নুরুর রহমান বেগ বলেন, আমাদের অরাজনৈতিক ও স¤পূর্ণ ধর্মীয় দাবীর লংমার্চের প্রতি সরকার অসম্মান দেখিয়ে ঢাকায় লোকসমাগম যাতে কম হয় সেজন্য নানা ফন্দি ফিকির শুরু করেছে। তিনি বলেন, বাংলার  জমিনে ইসলামের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্রই সফল হবেনা।
বক্তারা বলেন, ঘাদানিক ইসলাম ও দেশের শত্র“, ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময় তারা দাড়ি, টুপি, জুব্বা সহ বিভিন্ন ইসলামী নিদর্শন সমূহের অবমাননা করেছেন। বিগত জোট সরকারের আমলে ঘাদানিক নেতা শাহারিয়ার কবির রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও একটি দেশের গুপ্তচবৃত্তির দায়ে আটক হয়েছিল।  এই ইসলাম ও দেশ বিরোধী নাস্তিক মুরতাদদের পৃষ্ঠপোষকতা করে সরকার ইসলাম বিরোধী সরকারে পরিনত হয়েছে। সরকার মুখে বলছে লংমার্চে বাধা প্রদান করবে না, কিন্তু লংমার্চের বিরুদ্ধে ব্যাপক ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বাস এবং লঞ্চ মালিকানাদের ডেকে লংমার্চে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। লঞ্চ মালিকদের হুমকী দেয়া হয়েছে। কোন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তৌহিদি জনতাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। ঘাদানিকদের হরতাল জনগন ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করবে। তার সাথে সাথে নাস্তিক মুরতাদদের পক্ষালম্বনকারী এ সরকারকেও আল্লাহ তায়ালা ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করবেন। লংমার্চে বাধা দিলে জনগন এ সরকারের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরবে। দক্ষিন বঙ্গে হাজার হাজার রাসুলপ্রেমী ইতিমধ্যে ঢাকায় গমন করে সেখানে অবস্থান করছে। সরকার লঞ্চ বন্ধ করে দিতে পারে এ আশঙ্কায় লংমার্চের মূল কাফেলা আজই ঢাকার উদ্দেশ্যে গমন করেছেন। সকল তৌহিদি জনতাকে নিজ দায়িত্বে ঢাকা যেয়ে ঢাকার ফরিদাবাদ মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সেখানে বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা বাসীর থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বক্তারা বলেন- লংমার্চে বাধা দিলে পায়ে হেটে, সাতার কেটে হলেও জনতা ঢাকায় পৌছবে ইনশাল্লাহ। কোন অপশক্তি তৌহেদি জনতার জাগরণকে অবাদমিত করতে পারবে না। লক্ষ্যাধিক জনতা বরিশাল থেকে লংমার্চে যোগ দিবেন। সভায় বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বরিশাল মহানগরের আমির মাওঃ ওবায়দুর রহমান মাহ্বুব, মাওঃ আব্দুল মান্নান, মাওঃ মির্জা নুরুর রহমান বেগ, মাওঃ কাজী আব্দুল মান্নান, মাওঃ সামসুল হক, মাওঃ তৈয়ব কাসেমী, মুফতি শিব্বির আহম্মদ, মাওঃ রুহুল আমিন খান, মাওঃ হাফেজ রুহুল আমিন, মাওঃ গোলাম মোস্তফা, মুফতি সুলতান মাহ্মুদ, মুফতি রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আবুল কাসেম শাজাহান, মাওঃ মোঃ হাসান, মাওঃ আহ্মদ আলী কাসেমী প্রমুখ।

এদিকে তৌহিদী জনতার প্রানের দাবীর প্রতি সম্মান দেখিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে ব্লাসফেমী আইন পাশ করার আহবান জানিয়েছেন ছারছীনার পীর সাহেব কেবলা। গতকাল এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে ছারছীনা শরীফের পীর সাহেব কেবলা হযরত মাওলানা শাহ মোহাম্মদ মোহেবুল্লাহ জানান, ইদানিং এক শ্রেনীর নাস্তিক-মুরতাদগণ তাদের লেখনী ব্লগ শ্লোগান ও বক্তৃতায় আল্লাহ, রাসুল, কুরআন ইসলাম ও ইবাদত নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও কটাক্ষ করে চলেছে। যারমধ্যে সামান্যতম ঈমান আছে সে ব্যক্তি এসব পড়ে ও শুন্যে সহ্য করতে পারে না। তথাপি বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ শান্তিপ্রিয় জনগণ অধীর আগ্রহ নিয়ে সরকারের বিবৃতি ও গৃহিত পদক্ষেপ সমূহ পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল গঠন আশার সঞ্চার করেছে। এ পদক্ষেপ যেন নিছক লোক দেখানো না হয়। বরং সর্ব ধর্ম অবমাননা কারীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের সম্মুখীন করার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে ব্লাসফেমী আইন পাশ করতে পীর সাহেব ছারছীনা জোর দাবী জানান।
অপরদিকে ৬ই মার্চ লংমার্চ সফল করার জন্য অপরদিকে খেলাফত মজলিস সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান। গতকাল মহানগর শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাশেম শাহজাহান।