বরিশালে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট

শাহীন হাফিজ ॥ লংমার্চের দুদিন আগেই বরিশাল থেকে প্রায় ১৫ হাজার হেফাজত ইসলামের কর্মি ঢাকায় পৌছে গেছেন। আর সরকারের বাধা এবং বাস-লঞ্চ বন্ধ করে দেয়ার কারনে যারা ঢাকায় লংমার্চে যেতে পারেন নি তারা সবাই বরিশাল নগরীর বাজার রোড খাজা মঈনুদ্দিন মাদ্রাসায় অবস্থান নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করছেন। একিই সাথে তারা দিনভর রাস্তায় মাইক লাগিয়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দায় দিগন্ত টেলিভিশনে লংমার্চের লাইভ সম্প্রচার দেখে উজ্জীবিত হন।
এরআগে ০৫ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে বরিশাল নদী বন্দরে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন হেফাজতে ইসলামীর কর্মিরা। সরকারের পক্ষ থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় লঞ্চঘাটে বসেই অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন তারা। রাত এগারোটা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান কর্মসূচী পারনের পাশাপাশি প্রতিবাদী বক্তব্য, জিকির ও মাগরিব এবং এশার নামাজ আদায় করা হয়। পরে পুলিশের অনুরোধে তারা নদীবন্দর চত্বর থেকে অবস্থান কর্মসূচী সরিয়ে বাজার রোড খাজা মঈনুদ্দিন মাদ্রাসা কমপ্লেক্্ের নিয়ে আসেন।
এদিকে বরিশাল থেকে ঢাকামুখী লংমার্চে যেতে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে বরিশাল হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মিরা বাজার রোড খাজা মঈনদ্দিন মাদ্রাসা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে নগরীর সোনালী আইসক্রীম মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় বরিশাল হেফাজতে ইসলামের অন্যতম সংগঠক মাওলানা রুহুল আমিন খান ও মুফতি সুলতান মাহমুদ জানান, সরকার আমাদের যাত্রাপথে লঞ্চ ও বাস বন্ধ করে বাধা দিয়ে প্রমান করেছে এই সরকার নাস্তিকদের পক্ষের সরকার, কেন্দ্র ঘোষিত ১৩ দফা দাবী মেনে নেয়া না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে হুমকি দেন হেফাজত নেতারা।
এদিকে ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম সহ বামপন্থীদের ডাকা হরতালে বরিশাল নগরীতে কাউকে পিকেটিং করতে দেখা যায়নি। সকাল ১০ টায় হরতাল সমর্থকরা পুলিশি প্রহরায় হরতালের পক্ষে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বর থেকে সংক্ষিপ্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। হরতালে বরিশাল নগরীর জীবনযাত্রা ছিল স্বাভাবিক নগরীতে যথারীতি সকল ধরনের রিক্সা, অটোরিক্্রা ও টেম্পু চলাচল করেছে। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন ছিল।