বরিশালে ২৯১টি ভোট কেন্দ্রের ২২৬টিই ঝুঁকিপূর্ন

শাহীন হাফিজ ॥ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার সংসদীয় ৬টি আসনের মধ্যে ৩টি আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
যে তিনটি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে তার ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ২৯১টি। এর মধ্যে ২২৬টি ভোট কেন্দ্রকেই ঝুকিপূর্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বরিশাল-২ ঃ (উজিরপুর-বানরীপাড়া) আসনে ১শ’টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৭৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ন। এ আসনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী তালুকদার মোঃ ইউনুস এম.পি নৌকা প্রতীক নিয়ে, জাতীয় পার্টির (এ) নাসিমূল হক নাসিম লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবিনা আকতার আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮৬ জন।

বরিশালÑ৩ ঃ (বাবুগঞ্জ-মূলাদী) আসনে ৮৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ন। এ আসন থেকে জাতীয় পার্টির (এ) থেকে গোলাম কিবরিয়া টিপু এম.পি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এবং ওয়াকার্স পার্টির টিপু সুলতান হাতুরি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার ২ লাখ ১৭ হাজার ১৩৯ জন।  
বরিশালÑ৪ ঃ (হিজলাÑমেহেন্দিগঞ্জ) আসনে ১০৪টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৯১টি ঝুঁকিপূর্ন। এ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে পঙ্কজ দেবনাথ নৌকা প্রতীক নিয়ে, জাতীয় পার্টি জেপি থেকে শেখ মোঃ জয়নাল আবেদীন বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে, বিএনএফ থেকে আঞ্জুমান সালাউদ্দিন টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে প্রার্থীতা করছেন। মোট ভোটার ২ লাখ ৭৩ হজার ৫৬৩ জন।

ঝুঁকিপূর্ন কেন্দ্রের তালিকা তৈরির সাথে সংশি¬ষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যে সকল ভোট কেন্দ্রের চারপাশে সীমানা প্রাচীর নেই কিংবা ভোটকেন্দ্র ঘেষে চলাচলের পথ রয়েছে এছাড়াও নদীর তীরে ও যাতায়াত সমস্যা রয়েছে সেগুলোকে অধিক ঝুকিপূর্ন কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়েছে।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্ল¬াহ বরিশাল টুডে-কে জানান জেলার ৭ উপজেলায় নির্বাচনের জন্য ৪ হাজার ২শ’ পুলিশ ও আনসার মোতায়েন থাকছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র‌্যাব স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। ৬৩টি মোবাইল টিম নির্বাচনী এলাকায় সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন দুর্গম এলাকা হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এবার প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ না নিলেও সকল কেন্দ্রই স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

জেলা রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম জানান, পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ঝুকিপূর্ন ভোট কেন্দ্রের তালিকা নির্বাচনী এলাকার সংশ্লি¬ষ্ট সহকারী রিটানিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে। তারা ঐ এলাকার পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ভোটের দিন ঝুকিপূর্ন কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের পরিস্থিতি অবহিত করার জন্য জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। গোলযোগ বা কোনো প্রকার ভোট কারচুপির খবর পেলে যে কেউ কন্ট্রোল রুমকে অবহিত করতে পারবে। সে অনুযায়ী পুলিশ ও র‌্যাব ছাড়াও সেনাবাহিনী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। জেলা প্রশাসক বরিশাল টুডে-কে জানান প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রের জন্য ৫ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী করা হয়েছে। সড়ক পথে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌপথে কোস্টগার্ড দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনের দিন ২৫ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন। সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য ৪ জন এডিসিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা ভিত্তিক ইউএনও এবং ওসিদের নেতৃত্বে তদারকির সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।