বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সকল লঞ্চ ও বাস চলাচল বন্ধ নদীবন্দরে শত শত হেফাজত কর্মির অবস্থান ধর্মঘট

শাহীন হাফিজ ॥ হেফাজতে ইসলামের ডাকা লংমার্চ ঠেকাতে শুক্রবার বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সকল বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা।
শুক্রবার বিকেলে হেফাজতে ইসলামের শত শত নেতাকর্মি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়না হয়ে বরিশাল লঞ্চঘাটে এসে আটকা পড়েন। এসময় পুলিশের বাধার মুখে তারা নদীবন্দরের মধ্যে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন। এসময় বরিশাল হেফাজতে ইসলামের অন্যতম সংগঠক মাওলানা রুহুল আমিন খান বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ন লংমার্চে বাধা দেয়ায় প্রমানিত হয়েছে এই সরকার নাস্তিকদের পক্ষের সরকার। সরকার গণধিকৃত শাহরিয়ার কবির গংদের মাধ্যমে হরতাল দিয়ে ইসলাম ও আলেম ওলামাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এর খেসারত সরকারকে একদিন দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হেফাজতে ইসলামের আরেক সংগঠক মাওলানা মোঃ মহিব্যুল্লাহ বলেন, পচাত্তর পরবর্তী দীর্ঘ একুশ বছর পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে না পেরে অবশেষে ভোটের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাথায় পট্রি বেধে এবং হাতে তসবিহ সম্বলিত ছবি দিয়ে পোস্টার লাগিয়ে বক ধার্মিক সেজে জনগনকে ধোকা দিয়ে ক্ষমতায় এসে এখন তার আসল চরিত্র প্রকাশ করছেন। ইসলাম রক্ষার লংমার্চে বাধা দিয়ে সরকার স্পষ্টই প্রমান করলো এই সরকার ইসলামের বিপক্ষের শক্তি। আগামি নির্বাচনে জনগন এর উপযুক্ত জবাব দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এরআগে দুপুরেই পুলিশের নির্দেশে বরিশাল নদী বন্দর থেকে সব লঞ্চ সরিয়ে নিয়ে নগরীর বেলতলা এলাকায় নোঙর করে রাখা হয়েছে।
বাস মালিক ও লঞ্চ মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, নিরাপত্তার অভাবে কোন বাস ও লঞ্চ  ছাড়া হচ্ছেনা। বরিশাল থেকে হেফাজতে ইসলামের অধিকাংশ কর্মিরা একদিন আগেই ঢাকা পৌছে গেছেন বলে জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের বরিশাল শাখা সভাপতি মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব। তবে  শুক্রবার সকালে যারা বরিশাল থেকে বাস ও মাইক্রোবাস যোগে ঢাকার দিকে রওয়ানা হয়ে গেছেন তারা মাওয়া ঘাটে আটকা পড়েন। সন্ধ্যায় ষেকান থেকে হেফাজত নেতাকর্মিরা বরিশাল ফিরে এসে বরিশাল নদীবন্দরে অবস্থান ধর্মঘটে যোগ দেন। মাওয়া ফেরিঘাটে সকল ফেরি ও স্পিডবোর্ট চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন বলে জানিয়েছেন মাওয়াঘাটে অবস্থানরত হেফাজতে ইসলাম বরিশাল শাখার অন্যতম নেতা মুফতি সুলতান মাহমুদ।
একজন বাসযাত্রী জানান, বড় বিচিত্র এই দেশ! সরকার যাত্রীদের যাতায়াতের পথ যেখানে সুগম করবে সেখানে সরকারের সমর্থকরাই হরতাল ডেকে জনগনের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘাদানিকদের বামপন্থী এবং নাস্তিক আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক যাত্রী।
বরিশাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি আফতাব হোসেন জানান, সব হরতালেই আমরা বাস বন্ধ রাখি। এবারও তাই নিরাপত্তার অভাবে আগাম বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় আজকের হরতালের সমর্থনে নগরীতে একটি মশাল মিছিল বের করে হরতাল সমর্থকরা।
এদিকে বাবুগঞ্জে ইসলামবিদ্ধেষী নাস্তিক ব্লগার ও ইসলামের অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে এবং হেফাজতে ইসলামের আহবানে ঢাকামূখে লংমার্চ সফল করতে বিশাল শোভাযাত্রা বের করে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা হেফাজতে ইসলাম। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর লংমার্চের সমর্থনে উপজেলার বাবুগঞ্জ বন্দর ও আশেপাশের বেশ কয়েকটি মসজিদ থেকে হাজার হাজার আলেম-উলামা ও মুসল্লিদের বিশাল শোভাযাত্রাটি বাবুগঞ্জ বন্দর কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে  প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জামে মসজিদের গিয়ে সমাবেশ করে। বাবুগঞ্জ উপজেলা হেফাজতে ইসলামের আহবায়ক মাওলানা মোঃ আনিচুর রহমানের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সদস্য সচিব মাওলানা কাওছার হোসেন,শেখ নজরুল ইসলাম মাহাবুব,নাসির উদ্দিন হাওলাদার,মোয়াজ্জেম হোসেন বিশ্বাস,মনির উদ্দিন হাওলাদার,দিপু সিকদার,হারুন হাওলাদার,নূরুল হক,হাসানাত সিকদার  প্রমূখ।
বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ(সাঃ) ইসলাম ও মুসমানদের বিরুদ্ধে ঘৃন্য কুটুক্তিকারী নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি দাবী জানান। এদিকে আজকের ঢাকায় লংমার্চ সফল করায় লক্ষ্যে শুক্রবার সকালে ও বিকেলে বাবুগঞ্জ লঞ্চঘাট ও রহমতপুর বাসষ্ট্যান্ডে আলেম-উলামা ও মুসল্লীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।