বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বাসে আগুন ॥ শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবী

বরিশাল নগরীর রুপাতলী হাউজিং এ গভীর রাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শিক্ষার্থীদের মেসে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে রুপাতলীর স্ট্যান্ডের পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। এই হামলায় ১১ শিক্ষার্থী জখম হয়। আহত শিক্ষার্থীরা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে গভীর রাতে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক কিছুক্ষণ অবরোধ ও রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভের পর বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আবারও সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এসময় ঢাকা টু কুয়াকাটা গামী একটি বাসে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার রাতে রুপাতলী হাউজিং এলাকার ২৩নং রোডের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মেসে এই ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীরা হলেন, মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের নুরুল্লাহ সিদ্দিকী, রসায়ন বিভাগের এস এম সোহানুর রহমান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আহসানুজ্জামান, গণিত বিভাগের ফজলুল হক রাজীব, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের আলীম সালেহী, বোটানি ও ক্রপ সাইন্সের আলী হাসান, বাংলা বিভাগের মো. রাজন হোসেন এবং মার্কেটিং বিভাগের মাহবুবুর রহমান, মাহাদী হাসান ইমন, মিরাজ হাওলাদার ও সজীব শেখ। শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে ছুড়িকাঘাত ও লাঞ্ছিত করার পর হামলাকারী পরিবহন শ্রমিকের বিচার দাবীতে সড়ক অবরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এরই জের ধরে সড়ক অবরোধের সময় নেতৃত্বদেয়া শিক্ষার্থী মাহামুদুল হাসান তমালের মেসে গভীর রাতে হামলা চালায় পরিবহন শ্রমিকরা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে পার্শ্ববর্তী মেসের ছাত্ররা তমালকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালানো হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ১১ জনই সার্জারী বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনায় রাতেই ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করা হলেও সকাল ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলছে।
এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ববি উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বৈঠক শেষ হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম তলায় কীর্তনখোলা অডিটোরিয়ামে বৈঠকে বসেন তারা। উপাচার্য ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন সাংবাদিকদের জানান, যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবীগুলো শুনেছেন এবং সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা শুরু করেছেন। তবে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান। প্রয়োজনে সব পক্ষের সঙ্গে বারবার বৈঠকের কথাও বলেন তিনি।
তবে বৈঠক শেষেও ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। তারা হামলাকারীদের বিচারের দাবীতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিয়ে মিছিল করছেন। শিক্ষার্থীরা জানান, তারা বৈঠকে তিন দফা দাবীর কথা তুলে ধরেছেন। যা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। দাবীগুলো হলো, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় মামলা করা, এমন ঘটনার পুরনাবৃত্তি না হয় তার নিশ্চয়তা দেওয়া এবং হলের বাইরের অনাবাসিক শিক্ষাথীদের পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস জানান, রাতে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান তিনি সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক – কর্মকর্তাবৃন্দ। পরবর্তীতে আহত সকল শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়।
বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার নগরীর রূপাতলী এলাকায় বিআরটিসি বাস কাউন্টারের স্টাফ কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিতর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সেদিন দুপুর দেড়টা থেকে প্রায় দু’ঘন্টা সেখানকার বাস টার্মিনালে অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে রফিক নামের অভিযুক্ত স্টাফকে পুলিশ গ্রেফতার করলে অবরোধ তুলে নেয় তারা।