বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আগুন ॥ আতংকে রোগীরা বাইরে

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের বেশীরভাগ আতংকে ওয়ার্ডের বাইরে নেমে আসেন। যদিও তাৎক্ষনিক আগুন নিয়ন্ত্রন হলে সবাই আবার ওয়ার্ডে ফিরে যান। সোমবার রাত পৌঁনে ৮টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এসময় সেখানে চিকিৎসাধীন মোট ১১১ জন রোগী আতংকিত হয়ে বাইরে বের হয়ে দিক-বিদিক ছুটাছুটি শুরু করে। তবে তাৎক্ষনিক এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে করোনা ওয়ার্ডের রোগীরা অক্সিজেন সহকারে বাইরে বেরিয়ে দিক-বিদিক ছোটাছুটি করছে। এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে কোনো প্রকার বাঁধা প্রদান না করায় তারা কেউ কেউ সামনের সড়কে সহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান গ্রহন করেন।
এদিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও তার আগেই আগুন নিভে যায়। এ কারনে তাদের অগ্নিনির্বাপন কাজ করতে হয়নি।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক হোসেন জানান, করোনা ওয়ার্ডে প্রায় ১১১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদেড় মধ্যে ৪৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগী ছিলেন। তাদের সবার গরম পানির প্রয়োজন হয়। এ কারনে তারা সবাই সেখানে বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করেন। এক সাথে অনেকে বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করায় মিটারে চাপ নিতে পারেনি। এ কারনে মিটারের প্যানেল বোর্ডে ফায়ার সৃষ্টি হয়। তবে তাৎক্ষনিক নিভে যায়। কোন কক্ষেও আগুন প্রবেশ করেনি। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে তিনি জানান।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মো. বাকির হোসেন জানান, করোনা ওয়ার্ডের নীচ তলার সুইচ বোর্ডে সোমবার রাত পৌঁনে ৮টার দিকে পরপর দুইবার শর্ট সার্কিট হয়ে ফায়ার হয়। তবে আগুন ছড়ায়নি বা কোন ওয়ার্ডেও প্রবেশ করেনি। মুহূর্তের মধ্যে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ১১১ জন রোগীর প্রায় সব রোগী বাইরে নেমে আসেন। তাদের দেখাদেখি অন্যরাও দিক-বিদিক ছুটাছুটি শুরু করেন। খবর পেয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ বোর্ড মেরামতের কাজ শুরু করেন। এরপর রোগীরা আবার ওয়ার্ডে ফিরে যায় বলে তিনি জানান।