বরিশাল সিটি নির্বাচন ।। প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থীদের আগাম প্রচার-প্রচারণা

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ছয় মাস পরই নির্বাচনী ঢামাঢোল বাজবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, কর্পোরেশনের ৩০টি ওয়ার্ডে ৩০ জন ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ১০ জন নারী কাউন্সিলরগণ ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ওয়ার্ডে কেউ মারা গেলে, অসুস্থ হলে, দেয়া-মিলাদ কিংবা সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিগত দিনে অনেক কাউন্সিলর কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বীদের দেখা না মিললেও বর্তমানে তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কেবল নিজ ওয়ার্ডেই নয় পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডেও কেউ বিপদগ্রস্ত হলে তার সহযোগিতায় হাত বাড়াচ্ছেন কেউ কেউ। ঈদুল আজহা, দুর্গাপূজা ও স্মাটকার্ড বিতরণে নতুন মুখের প্রার্থীদের পাশাপাশি কাউন্সিলররাও প্রচার-প্রচারণায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাড়া-মহল্লায় বিশাল আকৃতির বিলবোর্ডে জনগণের পাশে থাকার নানা স্লোগান দিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন সকলেই। ঈদ শুভেচ্ছা ও দুর্গা পূজার শুভেচ্ছা সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও তোড়নে যেন নির্বাচনী আমেজ বইছে এ নগরীতে। কাউন্সিলররা অবশ্য শুভেচ্ছা ব্যানারের পাশাপাশি বাড়তি প্রচারণা চালাচ্ছেন স্মাট কার্ড বিতরণ নিয়ে। ওয়ার্ডগুলোতে স্মাটকার্ড বিতরণ যেন উত্সবে পরিণত হয়েছে। দল বেঁধে কাউন্সিলর কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকরা কাক ডাকা ভোরে নেমে যাচ্ছেন ভোটারদের স্মাটকার্ড পেতে সহযোগিতায়। কোরবানি ও পূজা শেষে সকল প্রার্থীরা দৌড়-ঝাঁপ করছেন এখন স্মাটকার্ড বিতরণে। ওয়ার্ডগুলোর নির্দিষ্ট স্থানে স্মাটকার্ড বিতরণকালে নানাভাবে ভোটারদের মন জয়ের জন্য প্রচার-প্রচার চালাচ্ছেন কর্মীরা।
নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিটি নির্বাচনে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন টানা ২৪ বছর কমিশনার ও কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালনকারী ৫ কাউন্সিলর। এদের মধ্যে ২১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাবেক প্যানেল মেয়র ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র আলতাফ মাহমুদ সিকদার, ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এ কে এম মুরতজা আবেদীন, ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সেলিম হাওলাদার ও ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ জাকির হোসেন জেলাল। এ চারজনের পাশাপাশি ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বর্তমান প্যানেল মেয়র-২ মোশারেফ আলী খান বাদশা তিনবার ও তার স্ত্রী একবার মিলিয়ে এ ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি রয়েছেন পারিবারিকভাবে। ১৯৯৫ সালের জানুয়ারি মাসের নির্বাচনে এ ৫ জন তত্কালীন পৌরসভার কমিশনার নির্বাচিত হন। এরপর থেকে এ ওয়ার্ডগুলোতে তাদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকায় টানা চারবার জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। এদের বাইরে টানা হ্যাট্রিক করা ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্যানেল মেয়র কে এম শহীদুল্লাহ, ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মীর জাহিদুল কবির, ২৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির, ৫নং ওয়ার্ডের মাইনুল হকও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। দুইবার নির্বাচিত ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আকতার উজ্জামান গাজী হিরু, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান টিপু, ১৯নং ওয়ার্ডের গাজী নঈমুল হোসেন লিটু রয়েছেন শক্ত অবস্থানে। নতুন মুখের কাউন্সিলর হিসেবে ১নং ওয়ার্ডের সৈয়দ সাইদুল হাসান মামুন রয়েছে শক্ত অবস্থানে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোতে এসব প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও এসব কাউন্সিলররা দিন-রাত সমানতালে ওয়ার্ডবাসীকে সময় দিচ্ছেন। এদের মধ্যে অনেকেই ব্যবসা, রাজনীতিতে উচ্চ পদে আসীন থাকায় তাদের কর্মীরা বাড়তি সুবিধা নিয়ে কাজ করতে পারছেন। এ ছাড়া ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল চৌধুরী রেজভীর মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে এনামুল হক বাহার নির্বাচিত হয়েছেন। এ ওয়ার্ডে মরহুম রেজভীর বড় ভাই ইমরান চৌধুরী জামাল প্রচারণা শুরু করায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মধ্যে ১০নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের হ্যাট্রিক কাউন্সিলর রাশিদা পারভীন, দুইবার নির্বাচিত সংরক্ষিত ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সেলিনা বেগম, সংরক্ষিত ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহানারা বেগম এবং সংরক্ষিত ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কোহিনুর বেগম শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। অপর ওয়ার্ডগুলোতে বর্তমান সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকা কাউন্সিলরদের বাইরের ওয়ার্ডগুলোতে বর্তমান কাউন্সিলর ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে চলছে নিত্যনতুন কৌশল। বিত্তবান ও ক্ষমতাধররা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী বাগাতে কিংবা ভোট নিশ্চিত করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। এসব ওয়ার্ডে বিত্তবান কাউন্সিলর ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকায় প্রতি দিনই নানা অনুষ্ঠানে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছেন। কেউ মারা গেলে কিংবা অসুস্থ থাকলে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন সকলেই। আবার প্রভাবশালী রাজনৈতিক পদ-পদবির প্রার্থীরা যুবকদের নিয়ে মহড়া দিয়ে নিজেদের পেশিশক্তির জানান দিচ্ছেন। কাউন্সিলর ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এসব কার্যক্রমে নির্বাচনের ছয় মাস পূর্বে যেন নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। তথ্য সূত্র ঃ দৈনিক ইত্তেফাক