বিআইডব্লিউটিসি’র ঈদ স্পেশাল সার্ভিস ৩০ ও বেসরকারী লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিস ২৯ আগস্ট

শাহীন হাফিজ ॥
ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে নাড়ীর টানে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের জন্য বিআইডব্লিউটিসি’র সরকারী জাহাজ ও উপকূলীয় এলাকার অভ্যন্তরীন রুটে চলাচলকারী সি-ট্রাক গুলো ২৯ জুন থেকে স্পেশাল সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে। তবে সিংহভাগ যাত্রী বেসরকারী কোম্পানীর লঞ্চে যাতায়াত করলেও বিআইডব্লিউটিএ এখনো লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিসের সময় নির্ধারন করতে পারেনি। সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন বেসরকারী যাত্রী পরিবহন সংস্থার (যাপ) নেতাদের সাথে এ নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী আলোচনা করে লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিসে সিডিউল দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত যে প্রস্তুতি রয়েছে তাতে ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটে ৬টি রকেট স্টীমার ও ২৭ বেসরকারী কোম্পানীর লঞ্চ ঈদে যাত্রী পরিবহন করবে।
বিআইডব্লিউটিসি’র সহ-মহাব্যবস্থাপক (বানিজ্য) সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ জানান-তাদের মোট ৮টি স্টীমার ২৯ আগস্ট থেকে ঈদ স্পেশাল সার্ভিসের যাত্রী পরিবহন শুরু করবে। এরমধ্যে এমভি বার আউলিয়া, এমভি মনিরুল হক চলাচল করবে চট্টগ্রাম ও হাতিয়া রুটে। রাজধানী ঢাকা থেকে দক্ষিনাঞ্চলের বরিশাল, ঝালকাঠী, হুলারহাটসহ মোড়েলগঞ্জ পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করবে পিএস মাহসুদ, অষ্ট্রিচ, লেপচা, টার্ন, এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙালী ।
৩০ আগস্ট থেকে ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের রুটগুলোতে বিআইডব্লিউটিসি’র নিয়মিত সার্ভিসের পাশাপাশি স্পেশাল সার্ভিসে থাকছে ৬টি স্টীমার। ৩০ আগস্ট সংস্থার নিয়মিত সার্ভিসের পাশাপাশি স্পেশাল সার্ভিসে ঢাকা থেকে পিএস লেপচা সন্ধ্যা ৭টায় হুলারহাটের উদ্দেশ্যে যাত্রী পরিবহন করবে। ৩১ আগস্ট এমভি মধুমতি সন্ধ্যা ৭টায় স্পেশাল সার্ভিসে ঢাকা থেকে হুলারহাট যাত্রী পরিবহন করবে। ১ সেপ্টেম্বর এমভি মধুমতি সকাল ৮টায় স্পেশাল সার্ভিসের যাত্রী নিয়ে হুলারহাট থেকে ঢাকায় যাত্রী পরিবহন করবে। ঐদিন সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা থেকে মোড়েলগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাবে।
৪ সেপ্টেম্বর পিএস টার্ন বিকেল ৫টায় ঢাকা থেকে স্পেশাল সার্ভিসের যাত্রী নিয়ে বরিশাল আসবে। ৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় মোড়েলগঞ্জ থেকে এমভি মধুমতি যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। ঐদিন স্পেশাল সার্ভিসের যাত্রী নিয়ে হুলারহাট থেকে পিএস লেপচা দুপুর ১টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
সংস্থার বরিশাল থেকে সরাসরি ঢাকায় যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে নিয়মিত সার্ভিসের বাইরে স্পেশাল সার্ভিসে ১ সেপ্টেম্বর এমভি মধুমতি সন্ধ্যা ৭টায় যাত্রী নিয়ে রওয়ানা হবে। ৩ সেপ্টেম্বর বরিশাল থেকে যাত্রী নিয়ে এমভি মধুমতি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। ঐদিন পিএস লেপচা স্পেশাল সার্ভিসে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় যাত্রী পরিবহন করবে। ৪ সেপ্টেম্বর পিএস টার্ন সন্ধ্যা ৬টায় স্পেশাল সার্ভিসের যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
ঢাকা-বরিশাল রুটে সরকারী এ ৬টি নৌ-যানের সাথে বেসরকারি কোম্পানির ৩০টি লঞ্চ যাত্রী পরিবহন করবে। এরমধ্যে ২৪টি লঞ্চ সরাসরি ঢাকা-বরিশাল রুটে চলবে। বাকী ৬টি ঢাকা-বরিশালের সাথে লঞ্চ ঝালকাঠী ও চাদপুরের যাত্রী পরিবহন করবে।
আকাশপথে বেসরকারী বিমান ইউএস বাংলা ফ্লাইট বৃদ্ধির পাশাপাশি ২৯ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫শ’৯৯ টাকায় টিকেট বিক্রি করবে। ইউএস বাংলার এখানকার এক্সিকিউটিভ অফিসার পবিত্র চন্দ্র দাস জানান, সপ্তাহে তিন দিন নিয়মিত সার্ভিসের পাশাপাশি ৩০ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর স্পেশাল সার্ভিস থাকছে। এ দিন দুপুর ২টায় স্পেশাল সার্ভিসের বিমান ঢাকা থেকে এবং বিকেল ৩টায় বরিশাল থেকে যাত্রী পরিবহন করবে। পবিত্র চন্দ্র জানান, ঢাকা থেকে বরিশাল ২৭ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বরের সকল টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে। সর্বনি¤œ ৩২শ’ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫শ’ টাকায় এসব টিকেট বিক্রি হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশের স্পেশাল সার্ভিস না থাকলেও ২৬ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বরিশাল থেকে দু’ হাজার টাকায় এবং ৩ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে বরিশালের টিকেট দু’হাজার টাকায় পাওয়া যাবে।
বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ’র উপ-পরিচালক আজমল হুদা সরকার মিঠু জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে লঞ্চে ও টার্মিনালে সিসি-ক্যামোরার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি নৌ-পুলিশ, সাদা পোশাকধারী পুলিশ, র‌্যাব, কোষ্টগার্ড, ফায়ারসার্ভিস, আনসার, মেরিন ভলান্টিয়ার, স্কাউটের সদস্যরা বন্দর এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে। যাত্রীদের আর্চওয়ে দিয়ে টার্মিনালে প্রবেশ এবং বাহির হতে হবে। দূর্ঘটনা এড়াতে যাত্রীবাহি লঞ্চ চলাচলের রুটগুলোতে বাল্কহেড, কার্গো চলাচল নিয়ন্ত্রনে আনা হবে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।
লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছে, ঈদ সার্ভিসের লঞ্চগুলোর মধ্যে সুন্দরবন- ৮, ১০, ১১, ১২, সুরভী- ৭, ৮, ৯, পারাবত- ২, ৯, ১০, ১১, ১২, এমভি টিপু-৭, এমভি ফারহান-৮, কীর্তনখোলা-১,২ দীপরাজ এবং কালাম খান-১, তাসরিফ-১,৪ এ্যাডভেঞ্চার-১, দেশান্তর ও গ্রীণলাইন ২,৩ সহ ২৪ টি লঞ্চ থাকবে। তবে ঝালকাঠি ও পিরোজপুরে থেকে ৪ টি লঞ্চ ভায়া হিসেবে বরিশাল নদী বন্দর হয়ে চলাচল করলেও ঈদের সময় যাত্রীর চাপ থাকায় এগুলো বরিশাল নদী বন্দরে ঘাট দিতে দেয়া হয় না।
নদী বেষ্টিত দক্ষিনাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের কর্মস্থল থেকে ঈদে বাড়ি আসা ও ফিরে যাওয়ার জন্য নৌ-পথের এ সব নৌ-যান হচ্ছে ভরসা। উল্লেখিত রুটের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আবার অভ্যন্তরীন রুটের যাত্রা পথে হাজার হাজার যাত্রীকে নৌ-যানেই উঠতে হয়। বর্ষা মৌসুমের কারনে এখন অভ্যন্তরীন রুটের নৌ-পথ ঝুকিপূর্ন হয়ে আছে। ঈদে নির্বিঘেœ ঘরে ফেরার জন্য এ সব উত্তাল নদী পারি দিতে সি-ট্রাক গুলো স্পেশাল সার্ভিস প্রদান করবেন। এ ছাড়াও সংস্থার ফেরী গুলো পাটুরিয়া, দৌলতদিয়া, আড়িচা, শিমুলিয়া ও চরজানাজাত সহ সকল রুটে অতিরিক্ত ট্রিপ দিয়ে যানবাহন পার করবে বলে বিআইডব্লিউটিসি জানিয়েছে।
এবার দক্ষিনাঞ্চলের যাত্রীদের বাড়ি ফিরতে তেমন দূর্ভোগ পোহাতে হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারন নৌ-পথে আধুনিক বিলাস বহুল নৌ-যানের বহরের পাশাপাশি ঢাকা-বরিশাল সড়ক পথে ঈগল, হানিফ, সাকুরা, গোল্ডেনলাইন, সোনারতরী, মেঘনাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক বাস যাত্রী পরিবহন করবে। মাওয়া-বরিশাল রুটে বিআরটিসি এসি বাস সার্ভিসের সাথে মাইক্রোবাসে যাতায়াতের সুবিধা রয়েছে।