বিলুপ্ত পঞ্চায়েত প্রথার ঐতিহ্য রক্ষায় ।।বরিশালের লাকুটিয়ায় “পঞ্চায়েত ভবন”

✪এস. এম ফাহাদ, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি।। কাল মহাকালের অতলগভীরে হারিয়ে যাচ্ছে পঞ্চায়েত প্রথা, অথচ  বাংলার ইতিহাসের মতোই প্রাচীন ছিল এ প্রথা। আদিম মানব সমাজের সংঘবদ্ধ জীবন থেকেই গণতন্ত্র ও স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার ভিত্তি রচিত হয়েছিল। প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের গোত্র ভিত্তিক জীবনধারা কিংবা প্রাচীন ভারতের ষোড়শ মহাজনপদ অথবা প্রাচীন গ্রীসের নগর রাষ্ট্রে যে ধরনের গণতান্ত্রিক চিন্তাধারায় বিকাশ ঘটেছিল বলে মনে করা হয় তা হয়তো আধুনিককালের গণতান্ত্রিক সংস্কারের সাথে মেলানো যাবে না। কিন্তু সে যুগের মাপকাঠিতে এক বিশেষ ধরনের গণতন্ত্র ও স্থানীয় শাসনেরও বিকাশ সাধিত হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের গোত্রীয় গণতন্ত্রের উন্নত ও সংশোধিত রূপ হলো ইসলামী ও এর সাথে সম্পৃক্ত শূরা ও সালিশী ব্যবস্থা। চূড়ান্তভাবে একথা বলা যায় যে, অঞ্চলভিত্তিক নেতৃত্ব বিকাশের ইতিহাস মোটেই সাম্প্রতিক নয়। তবে  আধুনিক প্রশাসন সৃষ্টি হওয়ার আগে থেকেই প্রচলিত ছিল পঞ্চায়েত ব্যবস্থা। ঠিক কবে থেকে এই ব্যবস্থার পত্তন হয় তা অবশ্য জানা যায় না। তবে মোগল আমল থেকেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন এসেছে বার বার, আইন-কানুন হয়েছে নতুন, শাসন ও বিচার ব্যবস্থা হয়েছে আধুনিক ও যুগোপযোগী। উত্থান-পতন ও ভাঙ্গাগড়ায় নাগরিক জীবন হয়েছে বিপর্যস্ত। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত এই ব্যবস্থা সুচারুভাবে পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু ৪৭-এর মহারাষ্ট্রবিপ্লবের পর থেকে এই ব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে গেছে। পঞ্চায়েত সাধারণত মহল্লার জনগণের রুটিরুজির ব্যবস্থা, কাজ-কর্মে উৎসাহ দান, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, গোলযোগের ব্যবস্থা, জটিল মামলা মোকদ্দমা থেকে বিরত রাখা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুস্থদের সাহায্য ও সহযোগিতা করা, পারস্পরিক ঝগড়া-বিবাদ নিষ্পত্তি করা, গরিব বিবাহযোগ্য মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করা, মৃতদেহের সৎকার করা ইত্যাদি জনহিতকর কাজ করতো। কোনদিন কোন ক্ষণে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু হয়েছিল তা আজও কেউ সুনিশ্চিত করে বলতে পারেননি। মোগল আমলেই এ ব্যাপারে পরোক্ষ প্রমাণ মেলে। তবে ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে ঢাকার তৎকালীন নবাব আবদুল গনির প্রচেষ্টায় নতুন করে জীবন লাভ করে। নবনির্বাচিত পঞ্চায়েত সর্দার, নায়েব সর্দারদের বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অভিষিক্ত করা হতো। নবনির্বাচিত সর্দারদের সংবর্ধনা জানানোর জন্য গ্রামবাসী চাঁদা তুলে এক বিরাট প্রীতিভোজের আয়োজন করত। প্রথমদিকে পঞ্চায়েতগুলোর আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল। প্রচুর টাকা জমা থাকত পঞ্চায়েত তহবিলে। এসব টাকা নিজেদের বা অন্যের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে কিংবা এককালীন দানের মাধ্যমে জমা রাখা হতো। পঞ্চায়েতের টাকা কেউ ব্যক্তিগতভাবে বা অন্যায়ভাবে ব্যয় করতে পারত না। একমাত্র সমাজকল্যাণ কাজেই এটাকে ব্যয় করা হতো। সাধারণত সর্দারের কাছেই এ টাকা জমা থাকত। হিসাবপত্রের সব ব্যবস্থাও তিনিই করতেন। সরদারদের সহযোগিতা করার জন্য নায়েক বেরাদরদের তথা বিশিষ্ট মহল্লাবাসীদের নিয়ে একটি কমিটি থাকত। পঞ্চায়েতের সব কাজ পরিচালনা, সভা-সমিতি, আচার-বিচার করার জন্য মহল্লার মধ্যে একটি সার্বজনীন বাংলাঘর থাকত। এই বাংলাঘর মহল্লার অধিবাসীদের প্রচেষ্টাতেই করা হতো।  সেই যুগে আবার বাংলাঘরগুলো এলাকাবাসীর একটি মিলিত হওয়ারও স্থান ছিল। সবাই এখানে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা, সংবাদ বিনিময়, কুশল আদান-প্রদান, অবসর বিনোদন সেই সাথে পান-তামাকেরও আসর বসত। এর মাধ্যমেই মহল্লাবাসীদের মধ্যে গড়ে উঠত সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও সখ্যতা। পঞ্চায়েতগুলোতে বারোয়ারী কাজের জন্য উপযোগী আসবাবপত্র,  হ্যাজাক বাতি, সামিয়ানা, বিছানাপত্র, বাসনকোসন, বড় বড় ডেকচি, গোলাপদান, আতরদান, বর সাজানোর পোশাক-পরিচ্ছদ, মৃত ব্যক্তিদের সৎকারের সব রকম সরঞ্জাম যত্ন সহকারে মজুদ থাকত। কিন্তু ৪৭-এর রাষ্ট্রবিপ্লবের মহাপ্লাবন পঞ্চায়েত ব্যবস্থাও মুক্ত ছিল না। কয়েক দফা রাষ্ট্র-বিপ্লব হয়েছে। অনেক পরিবর্তন বিবর্তন এসেছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। পঞ্চায়েত বলতে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি সমন্বয়ে গঠিত পর্ষদকে বোঝায়। স্মরণাতীত কাল থেকে পঞ্চায়েত শব্দটি বাংলাসহ উত্তর ভারতের সমগ্র অঞ্চলে প্রচলিত ছিল। প্রাচীনকালে গ্রাম-সংসদ অথবা পঞ্চায়েত রাজা কর্তৃক মনোনীত বা কোন গ্রামের জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত হতো এবং গ্রাম প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ সংসদ ছিল বাইরের হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত। পঞ্চায়েতগুলিতে সকল শ্রেণি ও বর্ণের লোকদের প্রতিনিধিত্ব ছিল। পঞ্চায়েতগুলি গ্রামবাসীদের মধ্যে ভূমি বন্টন করত এবং তাদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করে সরকারের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করত। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে গ্রাম-বৃদ্ধ বা গ্রামের প্রবীণদের বিষয় উল্লেখ আছে। তারা ছিলেন গ্রাম-সংসদের সম্মানিত সদস্য এবং তাদের দায়িত্ব ছিল গ্রামের ছোটখাটো বিবাদ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের সহায়তা করা। মুসলিম শাসকগণ এমন এক ধরনের শাসনব্যবস্থায় প্রবর্তন করেন যা বৈশিষ্ট্যগতভাবে ছিল কমবেশি কেন্দ্রাভিমুখী। এমনকি, তখনও জমিদারগণ যতদিন রাজকীয় পাওনা নিয়মিত পরিশোধ করতেন ততদিন গ্রামের প্রশাসনে শাসকরা কোন হস্তক্ষেপ করতেন না। গ্রামগুলিতে বিচারব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব জমিদারদের উপর ন্যস্ত ছিল। বর্ণ-পরিষদ নামে সাধারণ্যে পরিচিত গ্রাম পরিষদ বা পঞ্চায়েত সীমিত ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারী ছিল। এ পরিষদ শুধু সামাজিক আইন ও প্রথাসমূহের ব্যাখ্যা এবং সামাজিকভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিবিধানের উপায় নির্দেশ করতে পারত। ব্রিটিশ শাসনের সূচনালগ্নে বাংলার গ্রামীণ শাসনব্যবস্থার প্রচলিত পদ্ধতি বহাল রাখা হয়। জমিদারের নেতৃত্বে পরিচালিত এবং বর্ণ-কাচারি নামে পরিচিত পঞ্চায়েত কেবল ছোটখাটো দীউয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এবং বর্ণবিষয়ক মামলা যেমন বর্ণচ্যূতি বা বিবাহ সংক্রান্ত বিবাদ নিষ্পত্তি করত। পঞ্চায়েত তখনও প্রশাসনের বিচারবিষয়ক রাজনৈতিক ইউনিট হিসেবে গড়ে উঠতে পারে নি, কারণ জমিদারই ছিলেন গ্রামগুলিতে বিচার ও পুলিশ প্রশাসনের একক কর্তৃত্বের অধিকারী। ১৮৭০ সালে ‘বেঙ্গল ভিলেজ চৌকিদারি অ্যাক্ট’ পাস করে গ্রাম্য চৌকিদারদের পঞ্চায়েতের অধীনে ন্যস্ত করে এককালের প্রায় নির্জীব পঞ্চায়েতকে পুনর্জীবিত করার চেষ্টা করা হয়। এ সত্ত্বেও পঞ্চায়েত কোন জনপ্রিয় সংস্থা ছিল না। এটি গ্রামের জনগণ কর্তৃক নির্বাচিতও ছিল না, অথবা গ্রামের কোন কল্যাণমূলক দায়িত্বও এর উপর বর্তায় নি। বাংলার স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের ইতিহাসে ১৮৮৫ সাল এক নবযুগের সূচনা করে। তখন থেকে ব্রিটিশ সরকার গ্রামীণ প্রশাসন পরিচালনার জন্য নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন এবং বাংলার মাটিতে তা বাস্তবায়নের চেষ্টায় রত ছিল। ১৮৮৫ সালের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন আইন দ্বারা প্রতি জেলায় একটি করে জেলা বোর্ড এবং প্রতি মহকুমায় একটি করে লোকাল বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রথমদিকে গ্রাম-পঞ্চায়েত সম্পর্কে কোন ব্যবস্থাই নেওয়া হয় নি। কিন্তু গ্রামে কোন কল্যাণমূলক দায়িত্ব ছাড়া গ্রাম-পঞ্চায়েতের সার্থকতা নিয়ে অচিরেই ব্রিটিশ জনগণের মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। তদনুযায়ী ব্রিটিশ সরকার রয়্যাল কমিশনের বিকেন্দ্রীকরণ সুপারিশ গ্রহণ করে। এ সুপারিশ অনুসারে চৌকিদারি ও গ্রামের পুরো দায়িত্ব সমন্বিত করে গ্রাম পর্যায়ে গ্রাম-পঞ্চায়েতের স্থলে ইউনিয়ন বোর্ড নামে একটি নতুন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯১৯ সালের ‘বেঙ্গল ভিলেজ সেলফ গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট’ পাসের সঙ্গে সঙ্গে বাংলার পঞ্চায়েত প্রথা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।  প্রাচীন ভারতে পাঁচজন সদস্য নিয়ে যে স্বশাসিত স্বনির্ভর গ্রামীণ পরিষদ গঠিত হত, তাকেই বলা হত পঞ্চায়েত। আধুনিককালে এই শব্দটির সঙ্গে যুক্ত হয় এক সমষ্টিগত চেতনা। ‘পঞ্চায়েত’ শব্দটির লোকপ্রচলিত অর্থ হয়ে দাঁড়ায় ‘পাঁচ জনের জন্য’। সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর বর্তমানে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের তৃতীয় স্তরের সরকার। বর্তমানে গ্রামবাংলাকে কেন্দ্র করে যে প্রশাসনিক, জনকল্যাণমূলক, বিচারবিভাগীয় ও প্রতিনিধিত্বমূলক স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা পশ্চিমবঙ্গে প্রচলিত, তাকেই পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা নামে অভিহিত করা হয়। ১৮৭০ সালে প্রথম বঙ্গীয় গ্রাম চৌকিদারি আইনের মাধ্যমে আধুনিক গ্রাম পঞ্চায়েত ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। স্বাধীনতার পর গণতান্ত্রিক ভারতে এই ব্যবস্থা তৃণমূলস্তর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন আইন পাস হয় ও সংবিধান সংশোধন করা হয়। ১৯৫৭ সালে সর্বপ্রথম পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত আইন বিধিবদ্ধ হয়। ১৯৫৭ ও ১৯৬৩ সালের আইন অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে চার-স্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু হয়। এরপর ১৯৭৩ সালে নতুন আইনের মাধ্যমে চালু হয় ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থা। ১৯৯১ সালে ভারতীয় সংবিধানের ৭২তম সংশোধনী অনুসারে ১৯৯২ সালে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত আইনটিকেও পুনরায় সংশোধিত করা হয়। তবে বাংলাদেশে এখনও  পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। তবে তাকে অবশ্যই বর্তমান পরিস্থিতির সাথে সঙ্গতি রেখে যুগোপযোগী করে তুলতে হবে। কারণ পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সনাতন দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক নিয়মেই প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এত কিছুর পরও পঞ্চায়েত ব্যবস্থা একটি জনকল্যাণকর সামাজিক সংস্থা। সামাজিক কল্যাণের সর্বস্তরে এ সংস্থা আজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আজকের সমাজে সৌহার্দ্য ও জানাশোনা যা দিন দিন কমে আসছে  একই সাথে গতিশীল ও স্থিতিশীল করে সুখী সমৃদ্ধ সমাজ গড়তে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ভূমিকা অনস্বীকার্য। সমাজের উন্নয়ন সাধনই যে সংস্থার একমাত্র লক্ষ্য, তাকে সামাজিকভাবেই পুনর্গঠিত করতে হবে। তৎকালীন পঞ্চায়েতের উল্লেখযোগ্য কয়েকজন সদস্য ছিলেন, মির্জা আবদুল কাদের, নাজিরাবাজারের মতি, আবদুল মাজেদ ও চাঁন, লক্ষ্ণীবাজারের রহমতউল্লা, আমলীগোলার আবদুর রহিম ও মওলা বখশ, চাঁনখারপুলের মিয়া ও পেয়ারু, মগবাজারের ওসমান, কলতাবাজারের নাসির উদ্দিন, রায় সাহেব বাজারের ইলিয়াস ও সবুর ব্যাপারী, লোহারপুলের আহসান উল্লাহ, চকবাজারের জুম্মন বেপারী ওরফে আহসান মোহাম্মদ নবী, বাবু বাজারের চুনু ও গনি মিয়া, পোস্তগোলার নওলাক ও বেল্লাত আলী, ফরিদাবাদের গোলাম আলী, আলমগঞ্জের কাদের, রহমতগঞ্জের বসুরুদ্দিন ও আরেফ, বাসাবোর পাণ্ডব আলী, গোয়ালঘাটের হাজী ইউসুফ আলী, সাতরওজার সালাম, ইসলামপুরের আলী মিয়া, দয়াগঞ্জের আবদুল আলী, ইমামগঞ্জের সাহাবউদ্দীন, জিন্দাবাহারের সাত্তার, বংশালের আনিসুর রহমান, লালবাগের আবদুল বারেক, খাজে দেওয়ানের নবাব মিয়া, নবাবগঞ্জের চাঁনমাল, হাজারীবাগের এনায়েতউল্লাহ ও জামালখান, আলুরবাজারের আবদুল হাই, ফকির চাঁন ও নারিন্দার লেটকু। বরিশালের বাবুগঞ্জের ফতুল্লা তালুকদার, পরে ফতুল্লা তালুকদারের ছেলে ইয়াছিন তালুকদার, পরে ইয়াছিন তালুকদারের ছেলে আবদুর রহমান তালুকদার ও পরে আবদুর রহমান তালুকদারের ছেলে আবদুল হামেদ তালুকদার। আবদুল হামেদ তালুকদার ছিলেন শেষ পঞ্চায়েত সদস্য। একই বংশের একটানা চার প্রজম্ন পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন। পঞ্চায়েত প্রথা বিলুপ্ত হওয়ায় আবদুল হামেদ তালুকদারের ছেলে আবদুল কাদের তালুকদার তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের চাকুরীজিবী, স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের বরিশালের জেলা জজের জুরি সদস্য ছিলেন। আবদুল কাদের তালুকদারের ছেলে আবদুল মালেক তালুকদারও  বাংলাদেশ সরকারের প্রজাতন্ত্রের চাকুরীজিবী। আবদুল মালেক তালুকদারের ছেলে প্রিন্স তালুকদার আইন বিষয়ে পড়াশোনা করতেছেন, এছাড়াও ছাত্রজীবনের মধ্যথেকেই পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করতেছেন। প্রিন্স তালুকদার বরিশাল বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক। প্রেসক্লাব সভাপতি, সৃজনশীল মানুষ বলে খ্যাত আরিফ আহম্মেদ মুন্নার অনুপ্রেরনায়, বংশের একটানা চার প্রজম্ন পঞ্চায়েত সদস্যের অম্লান সৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে, বিলুপ্ত পঞ্চায়েত প্রথার ঐতিহ্য তুলে ধরতে, বরিশাল জেলার সদর উপজেলার লাকুটিয়া সড়কে গড়ে তুলতেছেন দৃষ্টিনন্দন “পঞ্চায়েত ভবন”। ইতিমধ্যে মূল ভবন তৈরীর কাজ শেষ হলেও পাঠাগার, কমিউনিটি সেন্টার, পুকুরের মাঝখানে বৈঠকখানাসহ ঘাটলা, কিডস স্কয়ার ও বিভিন্ন প্রকার রাইডার স্থাপনের কাজ চলছে। কাজ শেষে ভোরের আলোর মত রঙীন আভা ছড়িয়ে উদয় হবে, নতুন প্রজম্নের ইতিহাস, ঐতিহ্য জানার ও ঘুরে বেড়ানোরে এক নতুন দ্বার।#