ভারি বর্ষনে জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে

রাতভর ভারি বর্ষনে বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবন থমকে গেছে। ভারি বর্ষনের কারনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ডুবে গেছে বরিশাল নগরীর প্রধান প্রধান সড়কসহ দক্ষিনের নি¤œাঞ্চল। শুক্রবার সকালে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় বরিশালে ১৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। শুক্রবার ছুটির দিনে সরেজমিনে বরিশাল নগরীর বগুড়া রোড, সদর রোড, ফকিরবাড়ি রোড, কাউনিয়া, নবগ্রাম রোড পানিতে তলিয়ে থাকতে দেখা গেছে। বর্ষনে নগরীর রাস্তাঘাট ফাঁকা দেখা গেছে। তবে বৈরী আবহাওয়ায় নগরীর বিভিন্ন সড়ক এভাবে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষায় বেলা ১১টা পর্যন্ত বরিশাল সিটি করপোরেশন থেকে জলাবদ্ধতা রোধে কোন উদোগ নিতে দেখা যায়নি।
বরিশাল নদী খাল বাচাঁও আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন জানান, অপরিকল্পিত নগর উন্নয়নে বার বার নগরী ডুবছে। সিটি করপোরেশন থেকে এ বিষয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরিশাল জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল থেকে সকালে বৈরী আবহাওয়ার বিষয়ে সতর্কও করা হয়েছে।
এদিকে বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ও বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নগরজীবন। এছাড়া বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
বরিশাল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি এখন গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তবে একটানা মুষলধারায় বৃষ্টি হওয়ায় এটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বরিশালে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাত ২টা থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হয়। নি¤œচাপের কারনে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, সর্বশেষ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া আবুপুরের নয়াভাঙ্গলী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার, ভোলার দৌলতখানের মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ও ভোলার তেতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আর সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী বরিশালের পার্শবর্তী ঝালকাঠি জেলায় ১৭৭ মিলিমিটার, ভোলায় ১৭৫ মিলিমিটার, বরগুনায় ২৩৫ মিলিমিটার, পিরোজপুরে ১২০ মিলিমিটার, পটুয়াখালীতে ১৫৪ মিলিমিটার এবং সাগর তীরবর্তী খেপুপারায় ২২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।