মঠবাড়িয়ায় ছগির মেম্বারের যোগসাজশে ঘুষ নিয়েও ওসির বর্বরতা

পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ার তুষখালীতে এক কালের বিএনপি নেতা নব্য আওয়ামী লীগ নেতা ছগির মেম্বার এর যোগসাজশে ঘুষ নিয়েও ওসি নুরুল ইসলাম বাদলের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলামকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় বিষয়টি নিয়ে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেস ক্লাবে লিখিত সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. শফিকুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, চলতি বছর বিগত ২১ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে মঠবাড়ীয়া থানার এস.আই পলাশ চন্দ্র রায়, তুষখালী বাজার মমতাজ মার্কেটের সামনে আসিয়া আমাকে বলে যে, মঠবাড়ীয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুল ইসলাম বাদল স্যার আপনাকে থানায় যাওয়ার জন্য সালাম জানিয়েছেন। তখন আমি বলি যে, স্যারের সাথে কালকে দেখা করব। তখন এস, আই পলাশ চন্দ্র রায় আমার উপর ক্ষিপ্ত হইয়া অশালীন ভাষায় গালাগালি করতে থাকে এবং একপর্যায়ে গলা ধাক্কা দিয়ে থানার পিকআপ ভ্যানে আমাকে তুলে নিয়ে থানায় যায়। থানায় নেওয়ার পরে ওসি নুরুল ইসলাম বাদল এর সামনে হাজির করে। তখন আমি ওসি স্যারকে সালাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করি যে, স্যার আমার নামে কি কোন অভিযোগ আছে? তখন ওসি স্যার আমাকে বলে তোর নামে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তুই এলাকার কাউকে মান্যগন্য করনা, এলাকার চেয়ারম্যানের কথা তোয়াক্কা করনা, ছগির মেম্বারের কথা শোননা। তারপর আমি বলি স্যার অভিযোগ দেখান, তখন তিনি কোন অভিযোগ দেখাইতে পারে নাই। তিনি আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাইলেন, আরো বললেন যে, ৫০ হাজার টাকা দিলে তোকে ছেড়ে দেব, আর কোন অভিযোগ থাকবে না। তখন আমি বলি যে, ৫০ হাজার টাকা আমি কোথায় পাব? আমি দিতে পারব না। আমি নিরুপায় হয়ে বাড়ীতে মোবাইল করিলে আমার স্ত্রী মোসা. সালমা বেগম বাসা থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে থানায় আসে এবং আমার কাছে দেয়। তখন আমি সেই টাকা থেকে ওসির রুমে বসে নগদ তাহাকে ৬ হাজার টাকা ঘুষ দেই এবং এস,আই পলাশ চন্দ্র রায়কে ৩ হাজার টাকা দেই। উক্ত টাকা পাইয়া ওসি সাহেব বলেন যে, তোকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য ছগির মেম্বার আসিতেছে। উক্ত কথা বলতে না বলতেই ছগির মেম্বার ও তুষখালী ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহানের ছেলে শামিম ওসির রুমে প্রবেশ করে। রাত আনুমানিক ১১ ঘটিকা। তখন আমি বলি যে, সে আমাকে ধরিয়েছে। আবার সে আমাকে ছাড়াবে? উক্ত কথা শুনিয়া আমার উপর ক্ষিপ্ত হইয়া ওসি এবং এসআই এর সামনে ওসির রুমের ভিতরে আমাকে এলোপাথারি মারধর শুরু করে ছগির মেম্বার। তখন ওসি সাহেব ও এস,আই পলাশ কোন প্রতিবাদ করে নাই। আমাকে মারধর শেষে রাত সাড়ে ১১ টার দিকে থানা হাজতে প্রবেশ করেন এবং ছগির মেম্বারের নির্দেশে ছোট মাছুয়া নিবাসী মোসা. তাসলিমা বেগমকে বাদী বানিয়ে মারামারি করার মিথ্যা মামলায় আমাকে পরের দিন কোর্টে প্রেরণ করে। যাহার মঠবাড়ীয়া থানার মামলা নং- ৩৩/২৬৯, তারিখ- ২২/০৭/২০২১ইং। উক্ত মামলায় আমি ২০দিন জেল হাজত খাটিয়া জামিনে বের হই। তুষখালী ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান আন্তর্জাতিক চোরাকারবারি চক্রের অন্যতম সদস্য। বিগত ২০০৭ সালে সে বঙ্গোপসাগর হয়ে সুন্দরবনের উপকুলীয় এলাকায় ভারত থেকে আনা ৫ কোটি টাকার ভারতীয় কাপড় সহ কোষ্টগার্ডের হাতে ধরা পরে জেল খেটে আবার জামিনে বের হয়েছে। ছগির মেম্বার ও শামিম মঠবাড়ীয়া থানার কুখ্যাত ডাকাত ও চোরা কারবারী। ছগির মেম্বারের বিরুদ্ধে মঠবাড়ীয়া থানায় ৪টি মামলা রয়েছে। ১। মামলা নং- ২২, তারিখ- ১৮/১০/২০০৬ ইং। ২। মামলা নং- ২১, তারিখ- ১২/০৪/২০০৯ ইং। ৩। মামলা নং- ৩৯, তারিখ- ২১/০৫/২০০৯ ইং। ৪। মামলা নং- ১০, তারিখ- ০২/১০/২০০৬ ইং। এছাড়াও পিরোজপুর সদর থানায় মামলা রয়েছে। মামলা নং- ১৫, তারিখ- ২৫/০৮/২০০৬। এছাড়াও ঢাকা মতিঝিল থানায় তাহার নামে সন্ত্রাস বিরোধি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ১টি মামলা রয়েছে। যাহার ডিবি পূর্ব বিভাগ ডিএমপি তদন্তাধীন অবস্থায় আছে। তাহার বিরুদ্ধে বন নিধন আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি মঠবাড়ীয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সমাজকল্যান বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে সখ্যতা গরে আওয়ামীলীগ নেতা বনে যান। তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করার পরে মঠবাড়ীয়া থানার ওসি এবং এস,আইদের সাথে সখ্যতা গড়ে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য সাধারন মানুষদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে এবং উক্ত ব্যক্তি তাহার সাথে যোগাযোগ করলে মামলা নিষ্পত্তি করে দেন। তাহার বিরুদ্ধে এতগুলো মামলা থাকা সত্বেও তিনি থানার ওসি ও এস,আইদের সাথে থানায় বসে খোসগল্প করেন এবং নিয়মিত থানার দালালী করেন যাহা মঠবাড়ীয়া থানার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, ইতিপূর্বে তিনি সরকারী বিভিন্ন দফতরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি। উল্টা তারা তাকে আরও মামলা দিয়ে হয়রানি সহ নানা রকম হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। এ এমতাবস্থায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যে কোন সময় তারা তাকে গুম করে ফেলতে পারে।
এবিষয়ে মঠবাড়িয়ায় থানার ওসি নুরুল ইসলাম বাদল জানান, ঘুষ চাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। অভিযোগকারী শফিকুল ইসলামের সাথে থানায় বসে ছগির মেম্বারের সমঝোতার এক পর্যায়ে ছগির মেম্বার মারতে উদ্ধত হলে তাকে আমি নির্বৃত্ত করেছি।
মঠবাড়িয়ায় উপজেলার ১ নং তুষখালী ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ছগির মিয়া জানান, শফিকুলের দেয়া অভিযোগ সঠিক নয়। আমি তাকে মারধর করিনি। ইতিপূর্বে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা থাকলেও বর্তমানে সমাধান হয়েগেছে।