মিহির আলীর মৃত্যুর পর–

লিটন বাশার ॥ নিয়ম ও সু-শৃঙ্খল জীবন-যাপনের মধ্য দিয়ে মিহির আলীর মৃত্যুর পর তার জেস্ট্য সন্তান শের আলী সহ সকলের মন বিষাদে ভরপুর ছিল। কিন্ত এই একুশ শতকে শোকের আয়ু বড় জোর তিন দিন। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যই সকলে শোক কাটিয়ে উঠলো। এক মাসের মধ্যেই নিয়মিত কাজ কর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়লো মিহির আলীর ছেলে -মেয়েরা। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সবাই তার সম্পদ ভাগ বাটোয়ারা করে ভোগ দখলের জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠলো। মিহির আলীর বর্নাঢ্য অতীত আর কেউ মনে রাখছে না। যাদের জন্য সে এত সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে রেখেছিল তারা যে যার মত নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। মিহির আলী সম্পদ ভোগ করছেন সকল ছেলে মেয়ে আর নাতীরা কিন্ত তার কবরের দিকে কেউ ফিরেও তাকায় না। তার জন্য নেই কোন দান -দক্ষিনা। বরং বাসা বাড়িতে কিংবা পথে ঘাটে এতিম মিশকিন সাহায্যের জন্য হাত বাড়ালে তাদেরকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন। মিহির আলী কবরে সুয়ে সবকিছুই দেখছেন আর কস্ট পাচ্ছেন। তার সন্তানদের মধ্যে বেশী সম্পদের মালিক শের আলী। প্রতিদিনের ন্যায় কাজ কর্ম সেরে এক রাতে বাসায় ফেরার পর শের আলীর স্ত্রী তাকে নিয়ে রাতের খাবার খেতে বসলো। শের আলী তার স্ত্রী’র হাতটি জড়িয়ে ধরে বললো , “আমি তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই।”

স্ত্রী রেহনুমা রহমান তার চোখের দিকে শান্ত ভাবে তাকালো…। রেহনুমার মায়াবী ডাগর ডাগর চোখ দু’টির দিকে তাকিয়ে বিচলিত শের আলী। সে বুঝে উঠতে পারছে না কি ভাবে কথাগুলো বলবে। কিন্তু বিষয়টা স্ত্রীকে জানানো উচিৎ বলে মনে মনে ভাবছে শের আলী।—(চলবে)