মৌলবাদকে পরাজিত করে নারী প্রগতির পথ উন্মুক্ত করতে হবে

লিখেছেন
সোহেলী পারভিন
সহ-সম্পাদক
মুক্ত আকাশি মিডিয়া স্টার লিমিটেড

কিছুদিন আগে আমি একটি পোস্ট করেছিলাম, সেখানে আমি লিখেছিলাম ধর্মীয় মৌলবাদ হলো ধর্মের সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল ব্যাখ্যা, যা যুগের সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় বিধিবিধানের সংস্কারকে মানতে চায় না। দ্বিতীয়ত, মৌলবাদী সংগঠনগুলো মনে করে তারা যেভাবে ধর্মের ব্যাখ্যা দেবে সেটাই সবাইকে মানতে হবে এবং সে জন্য তারা সন্ত্রাস ও বল প্রয়োগের আশ্রয় নেয়।
আর তার সাথে আমি উদাহরণ দিয়েছিলাম, ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত হিন্দু সমাজে সতীদাহের মতো বর্বর প্রথা চালু ছিল। মধ্যযুগে ইউরোপে ডাইনি বলে কত নারীকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল ধর্মের নামেই, চার্চের নির্দেশে। হিন্দু ধর্মের ভগবান শঙ্করাচার্য স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, নরকের দ্বার হচ্ছে নারী। বাইবেলে বলা আছে, নারী হচ্ছে ‘রুট অফ অল ইভিল’। আর মুসলমান সমাজের পুরুষের স্বার্থপরতা মেয়েদের বন্দী হতে বাধ্য করেছে। ধর্মীয় বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে মেয়েরা ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছে। যত বিধিনিষেধ তাদের ওপর। পুরুষ স্বাধীন। মেয়েরা বন্দী। নারী-পুরুষের জৈবিক সম্পর্ককে মুসলমান পুরুষ সমধিক গুরুত্ব দেয়। উভয়ের সম্পর্ক যেন ভোক্তা ও ভোগ্যের। সে কারণে কঠোর পর্দাপ্রথা।
মৌলবাদী আন্দোলন এখন যেহেতু আন্তর্জাতিক রূপ পরিগ্রহ করেছে, কেউ নিজ দেশ ত্যাগ করে অন্য সেক্যুলার আইনের দেশে গিয়েও পরিত্রাণ পান না। সালমান রুশদী, তাসলিমা নাসরিন, নাওয়াল এল-সাদাওই’র উদাহরণগুলোই এক্ষেত্রে যথেষ্ট।
এতে আমাকে অনেকজন এই বিষয়ে নানা মতামত ও যুক্তি প্রদান করে। আমি এই বিষয়ে খুশি। কিন্তু এর মাঝে কয়েকজন আমার ম্যাসেজ দিয়ে নানা রকমের হুমকি আর অকথ্যক গালিগালাজ করতে থাকে, তাদের ধর্ম নিয়ে কেন বলেছি। কিন্তু আমি আমার মতাদর্শে অটুট, আমি তো সত্যতা তুলে ধরেছি।
তাদেরকে বলতে চাই, মৌলবাদীরা কোন ধরনের সংস্কারের বিরুদ্ধে। কিন্তু মৌলবাদীদের মতাদর্শগতভাবে পরাস্ত করেই তো আমাদের প্রগতির পথে অগ্রসর হতে হবে। মৌলবাদকে পরাজিত করে নারী প্রগতির পথ উন্মুক্ত করতে হবে। আবার নারী-পুরুষ সমতা, নারী স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেই ঘৃণ্য মৌলবাদকে পরাস্ত করতে হবে। নারী মুক্তির পক্ষে আমাদের রয়েছে বিরাট ঐতিহ্য_ বেগম রোকেয়ার ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য। মনে রাখতে হবে, যে কোনো সমাজে ‘নারীর সামাজিক অবস্থান দ্বারাই সমাজ প্রগতির মাত্রা নির্ণীত হয়।’ মনে রাখতে হবে, যে কোনো সমাজে ‘নারীর সামাজিক অবস্থান দ্বারাই সমাজ প্রগতির মাত্রা নির্ণীত হয়।’