যান চলাচলের জন্য জুলাইয়ে খুলে দেয়া হবে পায়রা সেতু

বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে পায়রা নদীর উপর নির্মাণাধীন (লেবুখালী) সেতুর টোল নির্ধারণ করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। টোল আদায়ের জন্য তিন বছরের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দিতে দরপত্র আহ্বান করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বছরের জুনের পর চলাচলের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হবে। সেতুটি উন্মুক্ত করা হলে সড়কপথে ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত যাতায়াতে ফেরি থাকবে শুধু পদ্মা নদীতে। এ সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে।
গত ১৮ মার্চ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের (টোল শাখা) উপসচিব ফাহমিদা হক স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে পায়রা সেতু পারাপারে যানবাহনের টোলের হার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সেতুটি পার হতে ট্রেইলার ৯৪০ টাকা, হেভি ট্রাক ৭৫০ টাকা, মাঝারি ট্রাক ৩৭৫ টাকা, বড় বাস ৩৪০ টাকা, মিনি ট্রাক ২৮০ টাকা, কৃষিকাজে ব্যবহূত যানবাহন ২২৫ টাকা, মিনিবাস-কোস্টার ১৯০ টাকা, মাইক্রোবাস ১৫০ টাকা, ফোর হুইল চালিত যানবাহন ১৫০ টাকা, সিডান কার ৯৫ টাকা, তিন-চার চাকার মোটরাইজড যান ৪০ টাকা, মোটরসাইকেল ২০ টাকা এবং রিকশা, সাইকেল, ঠেলাগাড়ির ১০ টাকা টোল দিতে হবে।
সওজের বরিশালের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা মো. তারেক ইকবাল বলেন, টোল আদায় কার্যক্রম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার জন্য গত ২ ও ৩ মার্চ সংবাদপত্রের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ৩ মে দুপুর সাড়ে ১২টার পর্যন্ত এ দরপত্র গ্রহণ করা হবে। পায়রা সেতুতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে টোল আদায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। থাকবে ওজন পরিমাপক যন্ত্র। পায়রা সেতু নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, চলতি বছরের জুনের পর যে কোনো সময় সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মহাসড়কের বরিশাল-কুয়াকাটার অংশে বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত পায়রা নদীর লেবুখালী পয়েন্টে এক হাজার ৪৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৯ দশমিক ৭৬ মিটার প্রস্থের চার লেনবিশিষ্ট পায়রা সেতু এখন পুরোপুরি দৃশ্যমান। উভয় দিকে সাত কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য নদীর মাঝে একটি মাত্র পিলার ব্যবহার করে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা।