রজব মাসের ফজিলত ও আমল

রেশমা ইয়াসমিন ॥ বিশেষ গুরুত্ববহ পবিত্র মাস ‘রজব’। এ মাসের বিষয়ে বহু রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে। স্বয়ং মহানবী (স.) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, ‘রজব মাস হচ্ছে মহান আল্লাহর নিকট অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি মাস, ফজিলতের দিক থেকে কোন মাস এর সমপর্যায়ে নয়। এ মাসে কাফেরদের সাথেও যুদ্ধ করা হারাম করা হয়েছে। রজব মাস আল্লাহর মাস, শাবান মাস আমার মাস এবং রমজান মাস হচ্ছে আমার উম্মতের মাস। যে ব্যক্তি রজব মাসের একটি দিন রোজা রাখে, মহান আল্লাহ্ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হন, মহান আল্লাহর ক্রোধ তার হতে দূরীভূত হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহের একটি দরজা তার জন্য বন্ধ হয়ে যায়।

ইমাম সাদিক থেকে বর্নিত হয়েছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘রজব মাস হচ্ছে আমার উম্মতের ক্ষমা প্রার্থনার মাস। অতএব এ মাসে অত্যাধিক ক্ষমা প্রার্থনা কর, কেননা মহান আল্লাহ ক্ষমাশীল ও অত্যন্ত দয়ালু। তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন, হে আল্লাহ আপনি আমাকে রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং মহিমান্বিত রমজান মাসে পৌছে দিন। রজব মাস থেকে নবীজি (সা.) রমজানের প্রস্তুতিস্বরূপ রোজা রাখা শুরু করতেন। মহানবী (সা.) থেকে বর্নিত হয়েছে, যে ব্যক্তি রজব মাসের রাতগুলোর একটিতে (দুই রাকাত করে) নির্দিষ্ট একটি নিয়মে ১০ রাকাত নামাজ আদায় করবে, মহান আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন। নামাজ আদায়ের পদ্ধতিটি হলো প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহার পর ১ বার সুরা কাফিরুন এবং ৩ বার সুরা এখলাস যুক্ত করে পড়া। এছাড়া বিভিন্ন হাদিসে রজব মাসের ফজিলত ও আমলের কথা বর্নিত হয়েছে। মোট কথা হলো পবিত্র রমজান মাসের প্রস্তুতি গ্রহণ করার মাস হিসেবে রজব মাস মুসলিম পরিবারে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে নবীজী (সা.) প্রকৃত আদর্শ ও সুন্নাত অনুসরণ করার মাধ্যমে রজব মাসের ফজিলত ও গুরুত্ব অনুধাবন করার এবং এই মাসে বেশি বেশি আমল করার তওফিক দান করুন।