রোজার সহনীয় খাবার

ডাঃ মোঃ আল- আমিন ।।
সারাদিন রোজা  রাখলে তা শরীরের উপর যে প্রভাব ফেলে, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য এই সময়ে চলতে হবে ভিন্ন নিয়মে। বিশেষ করে এই সময়ে খাবারে আনতে হবে বিশেষ পরিবর্তন। সেহরি ও ইফতারে আমরা যেসব খাবার গ্রহণ করি সেগুলোর সবই যথাযথ নয়। এ সব খাবারের মধ্যে কিছু রয়েছে যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়।
আবার কিছু খাবার আছে যেগুলো স্বাস্থ্যসম্মত, পুষ্টিকর হলেও সময়োচিত নয়। রোজার সময় বেশির ভাগ রোজাদারই অসুস্থ হয়ে পড়েন খাবারের  কারণে। বিশেষ করে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের কারণেই এই অসুস্থতা দেখা দিয়ে থাকে। এর সাথে রয়েছে অপর্যাপ্ত ঘুম। সারা দিন রোজা রাখার পর একসাথে অনেক খাবার খেতে হবে এরকম ধারনা থেকেই এই
বিপত্তি দেখা দেয়। এ কথা মনে রাখতে হবে যে,পাকস্থলীর একটি নির্দিষ্ট আয়তন ও খাবার ধারণের ক্ষমতা রয়েছে।
সুতরাং বেশি খেলে বিপত্তি ঘটবেই।
তাই সেহরি ও ইফতারে অতিভোজন পরিহার করা উচিৎ। অন্যদিকে  শরীর  স্বনিয়ন্ত্রিতভাবে রোজার সময় বিপাক ক্রিয়ার হার কমিয়ে দেয় এবং তখন শরীরে জমাকৃত চর্বি ক্ষুধা নিবারণে ব্যবহৃত হয়। রোজার সময় খাবারের ব্যাপারে বেশির ভাগ লোকই ভারী খাবার গ্রহণের দিকে বেশি মনোযোগী থাকে। রোজায় সুস্থ থাকার জন্য সব ধরনের খাবার মিলিয়ে খাদ্য তালিকা তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে, আটা বা চাল, দুধ ও দুধজাতীয় খাবার, মাছ, মাংস ডিম, ছোলা, শাকসবজি এবং ফল  রাখা উচিত। সেহরি ও ইফতার উভয়ের পরই ফল খাওয়া দরকার।রোজার খাবার যত সাধারণ হবে ততই ভালো।
রোজায় দীর্ঘ সময় উপোষ থাকতে হয় বলে সেহরিতে জটিল শর্করা গ্রহণ করা উচিত। এই জটিল শর্করা হজম হতে প্রায় ৮ ঘণ্টা লাগে। ফলে দিনের বেলায় ক্ষুধা কম অনুভূত হয়। জটিল শর্করা জাতীয় খাদ্যের মধ্যে রয়েছে শস্যদানা বা বীজজাতীয় খাবার, লাল আটা এবং ঢেকিছাঁটা চাল। অন্যদিকে পরিশোধিত শর্করা দ্রুত হজম হয়ে যায় এবং রক্তে দ্রুত গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে শরীরকে চাঙ্গা করে তোলে। এ ধরনের খাবার হজমে সময় নেয় তিন- চার ঘণ্টা। তাই এ ধরনের খাবার ইফতারে গ্রহণ করা উচিত। এ ধরনের শর্করাজাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে  ময়দা ও চিনি জাতীয় খাবার। খেজুর হতে পারে ইফতারের একটি অন্যতম খাবার। খেজুর হচ্ছে চিনি, আঁশ, শর্করা, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের উৎস। ইফতারে দু- তিনটি খেজুরই শরীরকে দ্রুত চাঙ্গা করে দিতে পারে, সাথে পানি পান করতে হবে প্রচুর। রোজায় ভাজাপোড়া খাবার সবারই প্রিয়, কিন্তু এই জাতীয় খাবার ইফতারিতে গ্রহণের ফলে রোজাদারের এসিডিটির সমস্যা দেখা দেয়। ভাজাপোড়া খাবার, অতি মসলাযুক্ত খাবার এবং অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণের কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।  হঠাৎ করে একসাথে এসব খাবার গ্রহণের ফলে বদহজম, বুকজ্বলা এবং ওজন বৃদ্ধির সমস্যা দেখা দেয়। রোজা রাখার সময় যাতে এসিডিটি দেখা না দেয় সেই জন্য আশযুক্ত খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া উচিৎ। এজাতীয় খাবার পাকস্থলীর মাংসপেশির সঙ্কোচন-প্রসারণ প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দিয়ে পেট ফাঁপা প্রতিরোধ করে। ফলে এসিডিটি দেখা দেয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়। ইফতারের পর ঘুমানোর আগ পর্যন্ত শরীরে সারা দিনের পানিস্বল্পতা এবং শরীরকে টক্সিনমুক্ত করার জন্য প্রচুর পরিমাণ পানি খেতে হবে।সেহরিতে অনেকেই চা পান করে থাকেন। কিন্তু না সেহরিতে চা পান থেকে বিরত থাকতে হবে। কারন  চায়ের মধ্যে রয়েছে ক্যাফেইন। এই ক্যাফেইন প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরে খনিজ লবণ ও পানিস্বল্পতা দেখা দিয়ে থাকে। এই পানিস্বল্পতা রোজাদারের জন্য কাম্য নয়, বরং সেহরিতে ২/১ টি কলা খাওয়া যেতে পারে। কলায় রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং কার্বোহাইড্রেট, যা সারাদিন দেহকে চাঙ্গা রাখবে।