লোভ আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে!

লিটন বাশার ॥ লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু- এ প্রবাদটি জানে না এমন মানুষ খুজে পাওয়া যাবে না। আবার এটা মেনে চলেন এমন মানুষও খুজে পাওয়া ভার। আমরা বিপদ দেখলে বলি হায়রে নিয়তি। আর অর্জন প্রাপ্তি দেখলে অহংকারে নিজের খ্যাতি খুজি। নিজেকে অহংকারের অলংকারে ভূষিত করতে চাই। অথচ হিংসা বিদ্বেষ সর্বনাশের মুল এ কথা আমরা সকলেই কম বেশী জানি। কিন্ত মানি না।  নিজের কীর্তির জন্য গর্ব অনুভব করতে ছারি না। আমি জ্ঞানী, আমি গুনি, আমি ধনবান, আমি সুন্দরী রুপবতী, আমি সুর্দশন, আমি শিল্পী, আমি সাহিত্যিক, আমি অভিনেতা কিংবা আমি অনেক ক্ষমতার মালিক। পরম শ্রষ্টাও বলেছেন অহংকার করো না। অহংকার পতনের মুল। আল্লাহ পাক রব্বুল আল-আমীন বলেছেন অহংকারকারী মানুষ বেহেশতের ঘ্রানও পাবে না। তবুও আমরা বলছি ‘ আমি কাউকে সালাম দেই না বরং এত সালাম পাই যা গ্রহনের সময় আমার নেই। নিজেকে ভাবি মহারাজা, মহা- রানী। ভদ্র বিনয়ী নম্্র স্বভাব যেন সমাজ ব্যবস্থা থেকে উঠে গেছে। অপর মানুষকে কস্ট দিয়েই নিজেরা সুখ খুজি। অপরের কস্ট আমাদের পাষান হৃদয়ে কোন রেখা পাত করে না।  ধন সম্পত্তির লোভে আমরা যা খুশি তাই করছি। অপরের হক নষ্ট করে নিজে বিত্তবান হওয়াই আমাদের সকলের একমাত্র লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও আর্দশ হয়ে উঠেছে। অথচ আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সা:) ছিলেন র্নিলোভ একজন শ্রেষ্ট মানুষ। আমরা রাসুলের আর্দশের কথা মুখে বলি। কিন্ত মানি না। বিনয়ের সর্বশ্রেষ্ট রতœাগার হযরত মুহম্মদ (সা:) এর জীবন শিক্ষায়ই আমাদের পাথেয় হওয়া উচিত। কিন্ত উচিৎ- অনচিতের প্রশ্নে স্বার্থপর এ যুগে অর্থনীতি যেন পক্ষপাত দুষ্ট। হত দরিদ্র দেশের মানুষের টাকা এখন হলমার্ক, ডেসটিনি, এম ওয়ে, এনওয়ে, এবিসিডি সব হরেক রকম বাটপারী নামে কতিপয় জ্ঞান পাপী প্রতারক দখল করে আছে। প্রতারকদের এ সব দৃশ্য আমাদের মত সাধারন মানুষের মনের মাঝে হতাশা বাড়িয়ে তুলে। বৃদ্ধ বাবার সাথে শিক্ষক পুত্রের প্রতারনার খবর ইদানিং আমাদের প্রায়ই ব্যথিত করে।  শিক্ষকের সম্মানটুকু যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হয় তেমনি তিনিও একজন বাবা হিসাবে তার সন্তানের কাছে ভবিষ্যতে  কি প্রত্যাশা করেন তা আমাদের ভাবনায় ফেলে দেয়।  মৃত্যু উপতৎকায় দাড়িয়ে থাকা বাবার বয়স প্রায় শতবর্ষ।  শিক্ষক পুত্র ধন সত্তর ছুই ছুই করছেন। তিনিও নিজের ছেলে- মেয়ে বিয়ে দিয়ে নাতি নাতনির মুখ দেখেছেন। কিন্ত এ বয়সেও বাবার সম্পত্তির লোভ তিনি সংবরন করতে পারছে না। এ কেমন নৈতিক অবক্ষয়। এই নগরীর একজন নামী দামী শিক্ষকের এ কান্ড আমাকে পীড়া দেয়। এই কি সৃষ্টির সেরা জীব হিসাবে দাবী করে আসা আমরা মানব জাতির কাজ!
স্বপ্ন দেখা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। জীবন যুদ্ধে ঝরে ডানা ভেঙ্গে পাখি হয়েও আমি বেচে আছি স্বপ্ন নিয়ে। আমার  অধরা স্বপ্নরা শরতের নীলকাশে সাদা মেঘের ভেলার মত খেলা করে কল্পনার ক্যানভাসে। স্বপ্ন গুলো উড়ে যাওয়ার সময়ও আমাকে বলে যায়  নিরাশ হয়ো না, হতাশ হয়ো না, কান্না ঝরিয়ে না বুকের মাঝে। আমি কান পেতে রই স্বপ্নে বোনা জালের মাঝেই এ নগরীর নিষ্টুর প্রকৃতির কিছু কথা শুনতে। আমি স্বপ্ন দেখি আমাদের লোলুপতার এ নিষ্টুর চরিত্র গুলো যেন  নতুন প্রজন্ম জানতে না পারে। নতুনরা যেন কিছুই বুঝতে না পারে আমরা খুব বেশী লোভী ও পাপী লোক ছিলাম। বৌদ্ধ্য , হিন্দু, খ্রীস্টান ও মুসলমান সকলের ধর্মেই রয়েছে শান্তির কথা। আর্দশ জীবন গড়ার কথা রয়েছে ইসলাম ধর্মে। কিন্ত আমরা কি দেখছি। মানুষগুলো সব অন্য রকম। বাইরে দেখলে বোঝার উপায় নেই আমরা কে কেমন। ভিতরে অন্ধকার অথচ উপরে আলোকিত মানুষ দাবী করে কত মিথ্যার ফুলঝুড়ি ছিনিয়ে যাই আম-জনতার মাঝে। এরচেয়ে ভন্ডামী আর কি হতে পারে । জ্ঞানের দ্বীপ শিখা জ্বালানো বিদ্যালয় গুলোতে যদি একজন শিক্ষকের ঠকবাজী জন্মদাতা পিতার সাথে প্রতরনা আর অসহায় ভাই বোনের সাথে বিমাতা সুলভ আচরন স্পষ্ট হয়ে উঠে তখন বিবেকের দংশনে আমার সোনালী স্বপ্নের ভবিষ্যত অন্ধকার মেরুতে হাটতে শুরু করে। পিতার সাথে সন্তান, ভাইয়ের সাথে ভাই , বোন, ভগ্নিপতি যখন প্রতারনা করে তখন তারা কারোর বন্ধু দাবী করতে পারে নতুন কোন স্বার্থের আশায়। সমাজ সভ্যতায় তা কি গ্রহন যোগ্য? তাদের কাছে শিক্ষা নিয়ে সততার কষ্টিপাথরে গড়া সোনার মানুষ তৈরী করা সম্ভব ? যদি তা না হয়ে থাকে তা হলে কেন বিদ্যালয়ের সামনে শোভা পাচ্ছে ‘ আসো জ্ঞানের সন্ধানে, ফিরে যাও দেশের সেবায়! কেন অসহায় মানুষের গলাকেটে বহুতল ভবনের বিদ্যালয় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে আলোকিত মানুষের হওয়ার জন্য আমাদের এ অশুভ প্রান্তকর চেষ্টা তা বোধগম্য নয়।