শিল্প কলকারকানা খোলার খবরে দক্ষিনের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের ঢল

বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে ঢাকামুখি মানুষের ঢল নেমেছে। পহেলা আগস্ট থেকে গার্মেন্ট খোলার খবরে ঢাকা ছুটছেন তারা। কিন্তু লকডাউনে অভ্যন্তরীন ও দূরপাল্লরা রুটের লঞ্চবাস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা। বাধ্য হয়ে ট্রাকে, পিকাপে, নসিমন, করিমন, মোটর সাইকেল, থ্রি হুইলার এমনকি ভ্যানেও তারা রাজধানীর দিকে ছুটছেন। দুর্যোগপূর্ন আবহাওয়ার কারনে পলিথিন টাঙিয়ে বৃষ্টির হাত থেকে পরিত্রান পাওয়ার চেস্টা করছেন তারা।
গার্মেন্ট খোলার খবরে শনিবার সকাল থেকে দক্ষিনের পথে পথে ঢাকামুখি মানুষের ¯্রােত নেমেছে। সকালে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনালে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয় ঢাকার যাবার জন্য। দক্ষিনের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্যানে, রিক্সায়, পিকাপে, ট্রাকে যে যেভাবে পেরেছে বিভাগীয় সদর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে পৌঁছেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভীর আরও বাড়তে থাকে। ঢাকামুখি বেশীরভাগ মানুষই গার্মেন্ট শ্রমিক। কিন্তু লকডাউনের কারনে সব ধরনের লঞ্চ-বাস বন্ধ থাকায় বিপকে পড়েন তারা। কোন উপায়ন্ত না পেয়ে এক পর্যায়ে তারা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহাসড়কে পন্যবাহি ট্রাক চলাচলে বাঁধা দেয় এবং বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে নগরীর বিমান বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু সময়ের মধ্যে পন্যবাহি যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
বাকেরগঞ্জের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার পহেলা আগস্ট থেকে শিল্প কলকারখানা খুলে দিয়েছে। শিল্প মালিক কর্তৃপক্ষ যথা সময়ে শ্রমিকদের কারখানায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এ কারনে তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে ছুটছেন। কিন্তু লঞ্চ-বাস বন্ধ থাকায় কিভাবে তারা ঢাকা যাবেন তা নিয়ে পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।
বরগুনা জেলার বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন বলেন, গাজীপুরে একটি পোষাক কারখানায় টেকনিশিয়ান পদে কাজ করি। কর্মস্থল থেকে জরুরী ডাক এসেছে। বরগুনা থেকে বরিশাল পর্যন্ত আসতে ১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন ঘুরতেছি মোটরসাইকেল, থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রা, সিএনজি আর ট্রাকের পিছনে। জিম্মি করা ভাড়া চাইছে এসব যানবাহনের চালকরা। পোষাক কারখানা খোলার আগে আমরা কিভাবে গন্তব্যস্থলে পৌছাবো সেই বিষয়টির দিকে সরকারের নজর দেয়া উচিৎ ছিলো। আমি তো যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেটেই রওনা দিলাম, আমার মত আরও অনেক মানুষই এই কাজ করেছেন।
বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কমলেশ চন্দ্র হালদার জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বাস টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়নও রয়েছে।
বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার কয়েক লাখ মানুষ ঢাকার বিভিন্ন শিল্প কলকারকানায় চাকুরী করেন। গেল ঈদের সময় ৪ দিনের জন্য লকডাউন শিথিল করায় তাদের বেশীরভাগ মানুষ বাড়ি ফিরেছিলেন। এখন দুর্ভোগ সাথে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন তারা।