শেবাচিমের করোনা ওয়ার্ডের সমস্যা ও সংকট নিরসনে কর্তৃপক্ষের সাথে বিভাগীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জরুরী বৈঠক

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের সমস্যা ও সংকট নিরসনে কর্তৃপক্ষের সাথে বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় হাসপাতালের পরিচালকের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জরুরী বৈঠকে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. সাইফুল হাসান বাদল, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস, জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার, সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন। মেডিকেলের নব নিযুক্ত পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মনিরুজ্জামান শাহিন এবং সিভিল সার্জন ডা. মো. মনোয়ার হোসেন সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে হাসপাতালের মূল ভবনের এবং করোনা ইউনিটের সমস্যা ও সংকট তুলে ধরেন চিকিৎসকরা। তারা জানান, হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক সল্পতা রয়েছে। করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসক কোয়ারেন্টাইনে থাকার ফলে চিকিৎসক ও সাপোটিং স্টাফ ঘাটতি থাকছে। এছাড়া গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বরিশালে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে এর সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে শেবাচিমে করোনা রোগী। আর এতেই হিমশিম খাচ্ছে শেবাচিমের চিকিৎসা সেবা এবং ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জন দুর্ভোগ। হাসপাতালে এমএলএসএস ও পরিচ্ছন্ন কর্মীর চরম সংকট রয়েছে। পাশাপাশি করোনা ওয়ার্ডে ভিজিটর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না ফলে অতিমাত্রায় নোংরা হচ্ছে করোনা ওয়ার্ড। করোনা ওয়ার্ডসহ শেবাচিমের বিভিন্ন বর্জ্য অপসারণ না করায় দেখা দিয়েছে দুর্গন্ধ রয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। আইসিইউসহ বিভিন্ন ইকুপমেন্ট পরিচালনার জন্য নেই দক্ষ টেকনিশিয়ান যার ফলে নষ্ট হচ্ছে দামি যন্ত্রপাতি। এসকল যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য দরকার প্রশিক্ষিত জনবল। করোনা ইউনিটে এখন পর্যন্ত লিফট চালু না হওয়ায় রোগীদের ওঠা নামা করতে সমস্যা হচ্ছে। অক্সিজেন সিলিন্ডার ওঠা নামা করতে করতে করোনা ইউনিটের নতুন ভবনের সিড়িটি ক্ষত বিক্ষত করা হয়েছে। গত ১ বছর ধরে সিটি করপোরেশন ময়লা অপসারন না করায় পুরো হাসপাতাল ক্যাম্পাস ময়লার ভাগারে পরিনত হয়েছে। এসব সমস্যার আশু সমাধান করা না হলে শের-ই-বাংলা মেডিকেলে প্রত্যাশিত চিকিৎসা সেবা পাওয়া সম্ভব নয়। এসময় বিভাগীয় কমিশনার গণপূর্তকে আগামী সাত দিনের মধ্যে করোনা ওয়ার্ডে নতুন ২টি এবং পুরনো ভবনে ২টি লিফট চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। আগামীকাল থেকে সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে মেডিকেল বর্জ্য অপসারন এবং আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগকৃত জনবল দিয়ে আপাতত সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে বিভাগীয় কমিশনারসহ অন্যান্য অতিথিরা শেবাচিম হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও করোনা ইউনিট পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন কালে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমরা সবাই মিলে এই মহামারী প্রতিরোধে একসাথে কাজ করবো। সবাই নিজের স্থান থেকে দেশের মানুষের সেবা করার চেষ্টা করবেন। আমি বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরকারের উপর মহলে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবো।