শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ইউনিটে টয়লেট থেকে মল মূত্র ছড়িয়ে পড়েছে মেঝেতে

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে টয়লেট থেকে মল মূত্র ছড়িয়ে পড়েছে মেঝেতে। এতে করে ব্যাপক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে। বুধবার বিকালের দিকে করোনা ইউনিটের নিচ তলার টয়লেট থেকে পানি উপচে পড়ে এই ঘটনা ঘটে।
করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীণ রোগীর স্বজন রাকিবুল ইসলাম বলেন, বিকাল তিনটার পর থেকেই ইউনিটের নিচ তলা পানিতে ভরে যায়। এরপর পানির উৎস খুঁজতে গিয়ে টয়লেটের সামনে যাই এবং দেখতে পাই টয়লেট উপচে পানি পড়ছে।
ফরহাদ মজুমদার নামে এক ব্যক্তি বলেন, টয়লেট থেকে উপচে পড়া পানির সাথে মল মূত্রও আসছে। নিচ তলা ভরে গেছে টয়লেটের পানিতে। উপরে নার্স ডাক্তারদের জানিয়েছি। বলেছি এখানে দায়িত্বরত কিছু লোকজনকেও।
করোনা আক্রান্ত রোগীর স্বজন স্বপ্না বিশ্বাস বলেন, বিকাল ৬টা পর্যন্ত এগুলো পরিষ্কার করতে কেউ আসেনি। কি যে দুর্ভোগ বলে বোঝানো সম্ভব নয়। টয়লেটের পানি মারিয়ে বাইরে যেতে হচ্ছে, আবার আসতে হচ্ছে। শুধু আমি এই দুর্ভোগের শিকার নই, এই দুর্ভোগের শিকার এখানে আসা যাওয়া করা হাজারো লোক। রোগী বাড়ার সাথে মল মূত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি করেছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, গনপূর্ত বিভাগ নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মান কাজ সম্পন্ন করেছে এই হাসপাতালের ৫ তলা বিশিষ্ট ভবনটির। যাতে এখন করোনা ইউনিটটি রয়েছে। টয়লেট বা বাথরুমে ফিটিং করা হয়েছে নিন্ম মানের স্যানিটারি সামগ্রী। এই কারণে ইতিপূর্বেও বাথরুম থেকে পানি পরে করোনা ইউনিটের তৃতীয়, দ্বিতীয় ও নিচতলার মেঝে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ইতিমধ্যেই শুনেছি। সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, হাসপাতালের করোনার এই ইউনিটের বর্তমান বেড সংখ্যা ৩শ। কিছুদিন ধরে প্রতিদিন গড়ে তিনশ এর অধিক রোগী ভর্তি রয়েছে এখানে।