“সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন এম এ আবুল কালাম”

প্রভাষক সাইফুল রহিম: বরিশাল বাবুগঞ্জ এর কৃতি সন্তান আলোকিত মানুষ বিশিষ্ট শিল্পপতি শিক্ষানুরাগী সমাজ সেবক দানবীর এম এ আবুল কালাম (৭৮) ১৯নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ১.৩০মি: ঢাকা ইউনাইটেড হসপিটালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) দীর্ঘদিন পর্যন্ত মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল।আজ দুপুর জোহর বাদ সেগুনবাগিচা বড় মসজিদ এ প্রথম নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বাবুগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে২০ নভেম্বর শুক্রবার বাদ জুমা। নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবুগঞ্জ সিংহেরকাঠী নিজ বাড়িতে দাফন করা হবে।মৃত কালে স্ত্রী এক পুত্র ব্যারিস্টার এম এ আসওয়াদ সহ দুই ভাই বন্ধু অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। উল্লেখ, তিনি বরিশাল জেলাধনী বাবুগঞ্জ থানা রহমাতপুর ইউনিয়নের সিংহেরকাঠী গ্রামে ৩ রা অগ্রহায়ণ ১৩৫১ বঙ্গাব্দের জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম মফিজুদ্দিন সরদার, মাতা হাজেরা খাতুন ।নিজ গ্রামে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে বাবুগঞ্জ হাই ইংলিশ স্কুল থেকে ১৯৬১ সালে মেট্রিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সহিত উত্তীর্ণ হন ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। লন্ডন থেকে চাটাড সেক্রেটারীশীপ কোর্স চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রথম পর্ব সম্পন্ন করেন ।১৯৬২ সালে চাকরিতে প্রবেশ করার মাধ্যমে কম্ জীবন শুরু করেন। প্রায় দশ বছর চাকরি জীবনে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভলপমেন্ট ব্যাংক অফ পাকিস্তান, বহুজাতিক কোম্পানি সহ একাধিক কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন ।১৯৭২ সালে এক্সেলসিয়র ট্রেডিং কর্পোরেশন লিঃ নামে ইন্ডেনন্টিং প্রতিষ্ঠানটির গোড়াপত্তন করেন ।উক্ত প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশের বৃহত্তম ইন্ডেনন্টিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত ।তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩সালে এদেশে আমদানি বিকল্প শিল্প হিসেবে ফামা এইডস নামক দেশের প্রথম অটোমেটিক এ্যস্পোল উৎপাদনকারী ফ্যক্টরী প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশি রপ্তানিমুখী স্পোর্টিস সুজ উৎপাদনকারী শিল্পের পথিকৃৎ এক্সলসিয়র সুজ লিঃ নামক প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, চট্টগ্রামের স্থাপন করেন। উল্লেখ্য যে মালয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট ডা:মাহাথির মোহাম্মদ বাংলাদেশ সফর কালে একটিমাত্র শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন তা হল এক্সচলসিয়র সুজ লি:১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের দিন বাংলাদেশের উপর বিবিসির টেলিভিশনে যে প্রতিবেদন প্রচার করেছিল সেখানে একমাত এক্সলসিয়র সুজ লিঃ কে প্রদর্শন করা হয়েছিল। চট্টগ্রামস্থ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের বর্তমানে লক্ষাধিক লোক কর্মরত আছেন যার প্রায় ৫০ পার্সেন্ট বরিশাল অঞ্চলের। মূলত এক্সলসিয়র লিঃ এর প্রতিষ্ঠা ও চাকরী সূত্রে একে অন্যের মাধ্যমে তাদের আগমন ঘটে। এছাড়া ও তার প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল বিস্কুট লি :এ দেশের বিস্কুট উৎপাদন ও প্যাকেজিং এর ক্ষেত্রে নতুন আধুনিক ধারার সূচনা করেন। ওষুধ শিল্পের আদান হিসেবে কেমিকো ফার্মাসিটিক্যাল লিঃ সহ আবুল কালাম আজাদ এর প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান (মেনুফেকচারিং কোম্পানি) এবং দুটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান (ট্রেডিং কোম্পানি)এর বিভিন্ন স্তরে ৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন । ব্যবসার পাশাপাশি সমাজ উন্নয়নে বিশেষ করে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে দাতা হিসেবে তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত আছেন। এছাড়াও গরীব ও মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়ার সার্বিক ব্যয়ভার নির্বাহের জন্য বৃত্তি এবং চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহে অসমর্থ গরীব রোগীদের চিকিৎসার জন্য তিনি পূর্ণ আর্থিক অনুদান প্রদান করে যাচ্ছেন। তার আর্থিক সহায়তায় অনেক গরীব মেধাবী ছাত্র ছাত্রী লেখাপড়া সমাপ্ত শেষে বর্তমানে দেশে বিদেশে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি কোমল হৃদয়ের ও প্রফুল্ল মনের মানুষ সব সময় হাসিমুখে থাকতে পছন্দ করেন। তিনি একেবারে নিরহংকারী ও প্রচার বিমুখ,দান অনুদানের ক্ষেত্রে গোপনিয়তা রক্ষা করার চেষ্টা করেন।এ নিরাহংকারী মহামানুষ দেশের জন্য সব সময় নিবেদিত। তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিতে বাবুগঞ্জের বহুসংখ্যক বেকার ছেলেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। এলাকার শিক্ষা বিস্তার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরিতে ও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তিনি হাজার ব্যস্ততার মাঝেও সব সময় সবার সুখে দুঃখে ছুটে যান।সব সময় সুখে দুঃখে বাবুগঞ্জ বাসীর পাশে দাঁড়িয়ে সবার কাছে মধ্য মনি হয়ে আছেন।