সাভার ট্রাজেডি ॥ বরিশালে কলির লাশ নিয়ে ফিরলেও পুতুল এখনো নিখোঁজ

আবুল হাসান মৃধা,নলছিটি ॥ সাভারের রানা প্লাজা ধসে নিহত কলির লাশ নিয়ে বাড়িতে ফিরছে স্বজনরা। কিন্তু ছোট বোন পুতুলের খোঁজ পাওয়া যায়নি এখনো। তাদের বাড়ি নলছিটি উপজেলার প্রতাব গ্রামে। বাবা রিক্সা চালক শহিদুল ইসলাম ও মা পান্নু বেগম। অভাবের তাড়নায়  ৬ষ্ঠ শ্রেনী পর্যন্ত পড়ালেখা শেষে করে সংসারের চাকা সচল করতে কাজের আশায় দু বোন  ঢাকায় পাড়ি দিয়েছিল পাঁচ বছর আগে। ২০০৮ সাল থেকেই সাভারের চুঙ্গিড়পাড়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। এখনো বিয়ে হয়নি কারো। জীবন শুরু হবার আগেই সব কিছু শেষ করে দিল ভবন ধসে।
সাভারের রানা প্লাজায় একটি পোষাক কারখানায় চাকরি করত তারা। মঙ্গলবার কাজ শেষে মায়ের সাথে মোবাইলে কথা বলেন দুই বোনই।এসময় তাঁরা মাকে জানিয়েছে, গামের্ন্টর ভবটিতে ফালট দেখা দিয়েছে। মা বারন করে কাজে যেতে।কিন্তু কাজে না গেলে চাকরি থাকবে না জানায় মাকে। বুধবার রানা প্লাজার ধসে নিহত হয় বড় বোন রিমা আক্তার কলি। শনিবার ভোর ৪টার দিকে তার লাশ পাওয়া যায় কলির। সকাল ৭টায় অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে কলির লাশ মায়ের কাছে হস্তান্তর করেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে ছোট বোন পুতুলের খোঁজ এখনো পাওয়া যায় নি। স্বজনরা রানা প্লাজার আশেপাশে ছোটাছুটি করছেন পুতুলের খোঁজে। নিহত কলি রানা প্লাজার চার তলায় আর ছোট বোন পুতুল তিন তলায় কাজ করত। কলি পুতুলদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতাম।দুই মেয়ের কথা বলে বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন বাবা মা।