সাভার ট্র্যাজেডি ॥ বোনকে রক্ষা করতে জীবন দিলো বরিশালের মাসুম

হাসিবুল ইসলাম ॥ সাভারে ভবন ধসে নিজের প্রাণ বিসর্জনের একটি ঘটনায় শোকস্তব্দ বরিশাল নগরবাসী। হারিয়ে গেছে শোক প্রকাশের ভাষা। নাগরিক কোলাহলের মধ্যে দীর্ঘ হচ্ছে শোক যন্ত্রণা। যন্ত্রনাকাতর স্বজনদের গগণবিদারী কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ। সাভারের রানা প¬াজা ট্র্যাজিডি এটি। মানুষের মনে সৃষ্ট ভয়াবহ বেদনাকাতর ট্র্যাজিডিতে ভাই এবং বোন। শুক্রবার একটি লাশ নগরীতে পৌঁছতেই শত শত মানুষের হৃদয় বিদারক কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। বোনকে উদ্ধার করতে গিয়ে ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এই হৃদয়কাতরতার সৃষ্টি হয়। ঢাকার সাভারে বহুতল ভবন ধসে নিহতদের মধ্যে বরিশাল নগরীর ২৮নং ওয়ার্ডের দিয়াপাড়া গ্রামের মোঃ শাহ আলম তালুকদারের পুত্র মাসুম তালুকদারের (২২) লাশ গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় বাড়িতে পৌঁছে। লাশ পৌঁছার পরই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শতশত শোকাহত লোক ভীড় করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। পুত্রের লাশ দেখে বৃদ্ধা মা হাজেরা বেগম জ্ঞান হারান চিরতরে। বৃদ্ধ পিতা বাকরুদ্ধ। মাঝে মাঝে পুত্রকে ফিরে দেখছেন। ধসে পড়া রানা প¬াজার সপ্তম তলায় সুইনিং গার্মেন্টে চাকুরী করতো শাহআলম তালুকদারের পুত্র মাসুম তালুকদার ও বোন নুপুর বেগম। দুর্ঘটনার সময় তারা দুজনই কারখানায় ছিলেন। মাসুম নিজে বেরিয়ে বোনকে না দেখে উদ্ধারের জন্য আবার দৌড়ে ধসে পড়া ভবনের মধ্যে ঢুকে পড়ে বোনকে উদ্ধার করে। কিন্তু পরে নিজে আটকে পড়ে। সেখানে তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। বোন নুপুর ঢাকা এনাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সকাল ১০টায় নিহত মাসুমের নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে বোনকে মৃত্যুকূপ থেকে উদ্ধার করার বিরল ঘটনায় শোকের মধ্যেও মহত্বের দৃষ্টান্ত নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মনে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেস। নিহতের বাড়ি থেকে ভেসে আসছে অবিরাম কান্নার শব্দ।