সারা দেশে লকডাউনের সরকারী সিদ্ধান্তে বরিশালের বাজারগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ॥ মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি

করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে বরিশালসহ বাংলাদেশের সব অঞ্চলে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার করোনা সংক্রমণ যাতে বৃদ্ধি না পায় সেই লক্ষ্যে সারা দেশে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এই লকডাউনের খবরে বরিশালের বাজার থেকে শুরু করে প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। আর এতে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে সবাই যে যার মতো করে পরিবারের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অধিক দ্রব্য সামগ্রী ক্রয় করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। এতে করে ব্যবসায়ীরা মালামালের চাহিদা দেখে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় বরিশাল বাজার রোড, পিয়াজ পট্টি, নতুন বাজার, বাংলা বাজার, পোর্ট রোড বাজার ঘুরে এমন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। তবে লকডাউনের সরকারী সিদ্ধান্তে বরিশালের জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা শুধু ঘোষনা মধ্যে না থেকে কঠোরভারে লকডাউন কার্যকর করার দাবী জানিয়েছেন। আগামী সোমবার থেকে সারা দেশে লকডাউনের সরকারী ঘোষনা সমযোপযোগী বলছেন বরিশালের সচেতন নাগরিকরা। শনিবার দুপুরে সরকারী এই ঘোষনার পর অনেক জনসাধারন বলেছেন, ইতিমধ্যে করোনা সংক্রামনের হার অনেক বেড়েছে। এ কারনে আরও আগেই নেয়া উচিৎ ছিলো লকডাউনের সিদ্ধান্ত। এবার কঠোরভাবে লকডাউন করার দাবী জানিয়েছেন তারা। আবার লকডাউনের মধ্যে কলকারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্তকে সাংঘর্ষিক বলছেন অনেকে। কলকারখানা খোলা থাকলে শ্রমিকদের যাতায়াতে স্বাস্থ্য বিধি লঘিংত হওয়ার আশংকা করছেন তারা।
উল্লেখ, শনিবার দুপুর পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন ১১৮জন রোগী। এর মধ্যে ২১জন পজেটিভ রোগী। ১২টি আইসিইউ বেডের দুটি নষ্ট আর বাকী সবগুলো পরিপূর্ন। আরও অন্তত ২০জন আছেন আইসিইউ সেবা পাওয়ার অপেক্ষায়। বিগত ২৪ ঘন্টায় শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজের আরটি পিসিআর ল্যাবে ১৭০ জনের নমূনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩০জনের। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন জানান, ২০২০ সালের মার্চে এই হাসপাতালের করোন ওয়ার্ডে ১জন রোগী মারা যায়। রোগী ভর্তি ছিলো ৮জন। অথচ এই মার্চে করোনা ওয়ার্ডে মারা গেছে ৩২জন এবং রোগী ভর্তি ছিলো ৩৫১জন। এ কারনে পরিস্থিতিকে ভয়াবহ উল্লেখ করে সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি।