সুস্থ গরু চেনার উপায়

মাসুদ আমিন ।।
আর ক’দিন পর কোরবানির ঈদ। কোরবানির জন্য গরু ছাগলের  চাহিদা প্রচুর। আর এই সুযোগে কিছু অসাধু খামারি গবাদি পশুকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, ইঞ্জেকশন ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে এগুলোকে মোটাতাজা করে থাকেন। যা পুরোপুরি অস্বাস্থ্যকর এবং মানব স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর।  তাই প্রশ্ন এসে যায় সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান পশু চেনার উপায় কি? গরু দেখতে স্বাস্থ্যবান মনে হলেও সুস্থ নাও হতে পারে। আসুন জেনে নেই  কয়েকটি উপায়।
১- ওষুধ, ইঞ্জেকশন ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে মোটাতাজা করা গরুর শরীরে পানি জমে গরুকে ফুলিয়ে দেয়। আর এর ফলে গরুকে হৃষ্টপুষ্ট দেখায়। গরু চিনতে হলে গরুর গায়ে আঙুল দিয়ে চাপ দিয়ে দেখতে পারেন। গরু সুস্থ হলে চাপ ছেড়ে দিলেই মাংস সাথ সাথেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।  ওষুধের মাধ্যমে মোটাতাজা করা গরুর শরীরে আঙুলের চাপ দিলে তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অনেক  সময় নিবে।
২-স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বৃদ্ধিপ্রাপ্ত গরু  চটপটে থাকে। কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরু শরীরে পানি জমার কারণে ও ওষুধের বিষক্রিয়ার কারনে নিস্তেজ থাকে ও  নড়াচড়া কম করে। এক জায়গায় বসে থাকে। এসব গরুকে  বসা থেকে উঠিয়ে হাঁটানো যথেষ্ট ঝামেপূর্ণ।
৩-গরুর শ্বাস প্রশ্বাস দেখে গরুকে ষ্টেরয়েড ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। ষ্টেরয়েড খাওয়ানো হলে গরু দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণ করে। গরুকে ক্লান্ত দেখা যায়। সারাক্ষণ হাঁপায় আর ঘামায়।
৪-  গরুর পাছার  মাংস টিপেও ধারনা পাওয়া সম্ভব। ষ্টেরয়েড ট্যাবলেট খাওয়ানো হলে গরুর মাংসপেশী নরম হয়ে কাদার মতো মোলায়েম হয়ে যায়। আর সুস্থ গরুর পাছার  মাংস থাকবে একেবারে শক্ত।
৫- গরুর মুখে অতিরিক্ত লালা বা ফেনা থাকাও কৃত্রিম উপায়ে গরুকে মোটা করার আরেকটি লক্ষণ। তাই এ ব্যাপারটিও খেয়াল রাখবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে  কৃত্রিম উপায়ে ওষুধ দিয়ে  মোটাতাজা করা গরুর মাংস খেলে মানুষের শরীরেও একইরকম বিষক্রিয়া হতে পারে। যেমন শরীরে পানি জমে যাওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া,রেনাল ফেইলিউর, চর্মরোগ,যকৃতের বিভিন্ন রকম সমস্যা ইত্যাদি।
সুতরাং কোরবানির পশু কেনার আগে দেখে শুনে কিনুন। পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুস্থ থাকুন ।