স্পেনের বিদায়

ADIOS SPANA—মারাকানার গ্যালারিতে এক চিলিয়ান দর্শক উঁচিয়ে ধরলেন লেখাটা। মানে—‘বিদায় স্পেন’! প্রথম ম্যাচে হল্যান্ডের কাছে নাকাল হওয়ার পর চারিদিকে রব উঠেছিল—‘টিকি-টাকার দিন শেষ’! আজ মারাকানায় চিলির বিপক্ষে স্পেন উপর্যপুরি নাস্তানাবুদ হওয়ার পর টিকি-টাকার মৃত্যু বুঝি চূড়ান্তই হয়ে গেল! চিলির বিপক্ষে ০-২ গোলে পরাজয়ে ব্রাজিল বিশ্বকাপে বিদায়ঘণ্টাও বেজে গেল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের।

জাভি, পিকেকে বেঞ্চে বসিয়েও খুব একটা কাজ হলো না ভিসেন্তে দেল বস্কের। নিস্ফলা আক্রমণ, দুর্বল রক্ষণভাগ, লক্ষ্যহীন পাস—চিলির কাছে নাস্তানাবুদ না হয়ে উপায় কী! ২০ মিনিটে চার্লস আরানগুইজের পাসে ক্যাসিয়াসকে হতবুদ্ধি করে দারুণ এক গোল দিলেন এদুয়ার্দো ভার্গাস। ৪৩ মিনিটে অ্যালেক্স সানচেজের ফ্রি-কিক ফিস্ট করে ফিরিয়ে দিলেন ক্যাসিয়াস। কিন্তু সেটি এসে ঠেকল চার্লস আরানগুইজের পায়ে। অমনি বাঁ পায়ে মাপা শট—গোল! ম্যাচের শেষ দিকে অবশ্য কিছুটা আক্রমণের পসরা সাজিয়েছিল স্পেন। কিন্তু তা নিভে যাওয়ার আগে দপ করে জ্বলে ওঠার মতোই! স্পেনের দখলে বল ছিল ৫৬ শতাংশ, চিলির ৪৪ শতাংশ। লক্ষ্যে নয়টি শট নিয়েছে স্পেন। তবে সেগুলোর কোনটিই জাল খুঁজে পায়নি। অথচ চিলির চারটির দুটিই জড়িয়েছে জালে।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের ইতিহাস নতুন নয়। ২০০২-এ ফ্রান্স বিদায় নিয়েছিল, ২০১০-এ ইতালি। তবে কোনো চ্যাম্পিয়ন দল পরপর দুই ম্যাচে এভাবে নাকাল হওয়ার ঘটনা বিরল। যে স্পেন গত বিশ্বকাপে মাত্র দুটি গোল হজম করেছিল, সেই দলই কিনা এবার দেড় ম্যাচে (চিলির বিপক্ষে দুটি গোলই খেয়েছে প্রথমার্ধে) সাত গোল হজম করল! গতবার দুটি গোল হজম করেছিল গ্রুপ পর্বে। সেটিও আবার সুইজারল্যান্ড ও চিলির বিপক্ষে। চিলিকে অবশ্য ২-১ গোলে হারিয়েছিল লা রোজারা। চার বছর পর কী মধুর প্রতিশোধটাই না তুলল সানচেজরা! বিশ্বকাপে চিলির বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলে দুটিতেই জিতেছিল স্পেন। একটি ২০১০-এ, আরেকটি ১৯৫০ বিশ্বকাপে। ভাগ্যের কী পরিহাস, ১৯৫০ বিশ্বকাপের ম্যাচটিও হয়েছিল এই মারাকানায়! সে ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে স্পেন হারিয়েছিল চিলিকে। ৬৪ বছর পর ঠিক উল্টো ফল!

২০০৬ সালের অক্টোবরের পর আজ পর্যন্ত টানা দুই ম্যাচে হারেনি স্পেন। এ আট বছর জিতেছে ট্রেবল—ইউরো-বিশ্বকাপ-ইউরো। ক্লাব ফুটবলেও এ সময়ে স্পেন শাসন করেছে প্রবল বিক্রমে। এবারও ছিল হট ফেবারিট। কিন্তু ব্রাজিলে এসে স্পেন যেন হারিয়ে গেল। ব্যর্থতার চোরাবালি থেকে উঠতেই পারল না, বরং ধীরে ধীরে তলিয়ে যেত থাকল। গতবারের মতো ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ও লক্ষ করা গেল না।  এক ম্যাচ বাকি থাকতে তাই চ্যাম্পিয়নদের বিদায়!