স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা নেই বরিশালের বেশিরভাগ পশুর হাটে

করোনার ভয়াবহ সংক্রমনের ঝুঁকির মধ্যেই স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বিভাগীয় শহর বরিশালের সব পশুর হাটে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করছেন। এতে করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদুল ফিতরে বিভিন্ন যায়গা থেকে সবাই ঈদ উপলক্ষ্যে এলাকায় আসছে এর প্রভাবে ঈদের পর থেকে বরিশাল অঞ্চলে বেরেই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। তবে প্রশাসনের হস্থক্ষেপে স্বাস্থ্যবিধি যাতে মানা হয় সেদিকে নজরদারি রাখা হবে বলে হাট কর্তৃপক্ষ জানালেও বাস্তবে তার উল্টো। বরিশালের বেশির ভাগ হাটগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা তো দূরের কথা ক্রেতা-বিক্রেতাদের কারও মুখে মাস্ক নেই। অথচ জেলায় প্রতিদিন বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। হাটের অধিকাংশ খামারী ও ক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। বেশির ভাগ হাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট পরিচালনা করার চেষ্টা করছেন। প্রচন্ড ভিড়ে কিছুটা স্বাস্থ্যবিধি মানা বিঘœ হচ্ছে। এবার বয়স্ক ও শিশুদের পশুর হাটে আসার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হাটের আয়োজন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তাদের দাবি, হাটে অন্তত পক্ষে প্রশাসনের নজরদারি থাকা দরকার।
বিক্রেতারা জানান, গত সোমবার থেকে হাটে গরু নিয়ে অপেক্ষায় থাকলেও ক্রেতা মিলছে না। গত বছর হাটের শুরুর দিনই একেকজন পাইকারের কমপক্ষে ২০/২৫টি গরু বিক্রি হলেও এবার ২/১টিও বিক্রি নেই। শুক্র, শনি ও গতকাল রবিবার সরেজমিনে বরিশাল মহানগরীর বাঘিয়া ও হাটখোলার স্থায়ী দু’টি গরুর হাটে পাশাপাশি বরিশাল ও ঝালকাঠীর সীমান্তবর্তী বিনয়কাঠী সুগন্ধিয়া হাট, চরমোনাই ও বানারীপাড়ার গুয়াচিত্রা বাজার ঘুরে দেখা হাটগুলোতে পশু ও ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও বিক্রি নেই। গত বছর এর সংখ্যা ছিল ৬৬ টি। এর মধ্যে ২৫টি স্থায়ী ও ৩৫টি অস্থায়ী হাট ছিল। এবার জেলার প্রতি উপজেলার স্থায়ী হাটগুলোতেই শুধু মাত্র ঈদুল আজহায় পশুর হাট বসানোর অনুমতি দেয়া বয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ঈদুল আজহায় বরিশাল জেলা ও মহানগরীতে কোরবানির পশুরহাটের সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এবার বরিশাল নগরীর স্থায়ী ২টি সহ মোট ৩৭ টি স্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসবে। তবে স্থায়ী হাট গুলো প্রতিবছরের ন্যায় নির্দিষ্ট স্থানে বসছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বরিশাল জেলার ১০ উপজেলায় ঈদুল আজহায় পশুর হাট বসবে ৩৫ টি। এদের মধ্যে, বরিশাল-ঝালকাঠীর সীমান্তবর্তী সুগন্দিয়া হাটের পাশাপাশি চরমোনাই, সাহেবেরহাট, গৌরনদীর কসবা, উজিরপুর-বানারীপাড়ার সামান্তবর্তী গুয়াচিত্রা, বাকেরগঞ্জের বোয়ালিয়া, বরিশাল সদর উপজেলার কাগাশুরা, তালতলী, বাকেরগঞ্জের চরাদী হলতা হাট, উজিরপুরের বরাকোটা, গৌরনদীর সাহেবেরচর, বাবুগঞ্জের রহমতপুর হাট বসছে। মৌসুমি বৃষ্টি উপেক্ষা করেও খামারীরা এসব স্থায়ী হাটে গরু নিয়ে ছুটলেও বিক্রিতে ভাটা।
জেল প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, এ বছর ঈদুল আজহায় পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যে কারণে বিগত সময়ের চেয়ে এবার কম সংখ্যক পশুর হাট বসবে। সবকটি হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে প্রণীসম্পদ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক ডা. কানাই লাল স্বর্ণকার জানান, বরিশাল সহ বিভাগের প্রতিটি পশুর হাটে প্রণীসম্পদ অধিদপ্তরের বিশেষ ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম উপস্থিত থাকবে। রোগা পশু যাতে হাটে বিক্রি হতে না পারে সেটি তদারকি করবে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম। এছাড়া বরিশাল মহানগরী ও জেলার পশুর হাটগুলোর জন্য ৩৪ টি ভেটেরিনারি টিম গঠনের কথা জানিয়েছেন তিনি।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট পরিচালনা করতে হবে। হাটে সবাইকে মাস্ক পরিধান করার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্রয়-বিক্রয় করতে সকলের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে আসছে ঈদুল আজহার পরে সংক্রমণের হার আরও বাড়তে পারে।