স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উধাও হওয়ার ২৩ ঘন্টা পর আত্মিয়ের বাড়ি থেকে নির্যাতিতা শিশুকে উদ্ধার

বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উধাও হওয়ার ২৩ ঘন্টা পর আগৈলঝাড়া উপজেলার এক আত্মিয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ঢাকায় চিকিৎসকের স্ত্রী কর্তৃক নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী নিপা। শনিবার ভোররাত ৪টার দিকে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার আশোয়ার গ্রামের জনৈক বিমলের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল আহসান। তিনি জানান, শিশুটি হাসপাতাল থেকে উধাও হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ তার সন্ধানে নামে। এরপর ঐ শিশুটির কাকা পরিচয়দানকারী তপন বাড়ৈর মামা শশুর বিমলের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এদিকে শিশুটিকে এভাবে চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আর স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, শিশুটির গ্রামের বাড়ির পাশেই তপন বাড়ৈ নামে ব্যক্তি রয়েছেন। যিনি শিশুটির সম্পর্কে চাচা হন, তিনিই শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়াসহ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য শুরু থেকেই জড়িত ছিলেন। স্থানীয়দের ধারনা আর্থিক প্রলোভনে নির্যাতনকারীদের পক্ষ হয়ে শিশুটির সাথে অমানবিক আচরণে লিপ্ত হয়েছেন তপন বাড়ৈ। হাসপাতাল সূত্রে জানাগেছে, শুক্রবার বেলা ১১টায় বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শামসুদ্দোহা তাওহিদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চাচা পরিচয়ে এক ব্যক্তি নির্যাতনের শিকার শিশু নিপাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা চালান। তবে শিশুটির শারিরীক অবস্থা ভালো না থাকায় তার সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত এবং বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় পুলিশকে না জানিয়ে তাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিতে রাজি হয়নি। পরে শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঐ শিশুটি এবং তার সাথে থাকা বড় মা পরিচয়দানকারী নারীকে আর দেখা যায়নি। শিশুটির পাশের বেডের রোগীরা জানিয়েছেন, সারারাত ঐ শিশুটির স্বজনদের মোবাইলে অনেক কল আসে এবং তারা সারারাত সজাগই ছিলেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে শিশুটি নিখোঁজের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হয়ে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
প্রসঙ্গত ঃ ডাঃ সি.এইচ রবিনের স্ত্রী রাখির অমানুষিক নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মীকে সর্বশেষ ২৩ ফেব্রুয়ারী গ্রামের বাড়িতে ফেলে রাখা হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে দেখা যায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়ে রয়েছে। হাসপাতালের চিকৎসকরা তার পুরাতন ও নতুন ক্ষত এর চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।