হরতাল আতংক ও লোডশেডিং মাথায় নিয়ে আগামীকাল বরিশাল বোর্ডে ৫২ হাজার ৮০৪ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে

 শাহীন হাফিজ ॥ আগামীকাল সোমবার সারাদেশের সাথে বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা। চলতি বছর বরিশাল বোর্ডের অধিন এইচএসসি পরীক্ষায় ২৬৫টি কলেজের ৫২ হাজার ৮০৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে। পরীক্ষা মানেই বাড়তি এক টেনশন। শরীর ছাপিয়ে তা বিস্তার করে মনে। পরীক্ষার প্রস্তুতিপর্বে শারীরিক চাপটা মূখ্য হলেও পরীক্ষার ঠিক আগম মুহূর্তে যোগ হয় মানসিক চাপ। এটা যে কোনো পরীক্ষার ক্ষেত্রেই হয়। কিন্তু এরই মধ্যে প্রধান বিরোধী দল টানা আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীদলকে ঠেকাতে নানামুখী কর্মসূচীতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হবে শিক্ষার্থীদের। হরতালসহ বিভিন্ন সহিংস ও কঠোর কর্মসূচীতে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন সংকটের মুখে পড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না, পাবলিক পরীক্ষার মতো ছোতে হচ্ছে অভ্যন্তরীন পরীক্ষাও। আবার পরীক্ষা ঘনিয়ে এলেও নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। রাজনৈতিক এ অবস্থার সাথে দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে চলছে তীব্র লোডশেডিং। লোডশেডিং সমস্যা ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক ও স্বাস্থ্যের প্রতি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিদুৎ বিভাগ জানায় চলতি মৌসুমে বিদুৎ এর চাহিদা এখন ৯০ থেকে ১শ’ মেগাওয়াটে পৌছেছে। এর অনুকূলে এখন পিক আওয়ারে পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫ মেগওয়াট। অফ পিক আওয়ারে ৩০ থেকে ৩২ মেগওয়াট। এলাকা ভিত্তিক ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং দিতে শুরু করেছে বিদুৎ বিভাগ। ৩৩ কেভি গ্রীড সঞ্চালন লাইনের দায়িত্বরতরা জানান, গরম পড়তে শুরু করায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। দিনে ৩০/৩২ মেগাওয়াট ও রাতে গড়ে ৪০/৪৫ মেগাওয়াট  বিদুৎ সরবারহ করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রে থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৩ সালে শুধু হরতালের কারনেই এসএসসি পরীক্ষায় ৬টি পরীক্ষার সময়সূচী স্থগিত করা হয়। পরে শুক্রবারসহ বিভিন্ন সময়ে এসব পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় রাজনৈতিক চলমান আন্দোলনের কারনে এবার সময়মতো তা সম্পন্ন করা নিয়েও আশংকা তৈরী হয়েছে। পরীক্ষার্থী সহ একাধিক অভিভাবক জানিয়েছেন চলতি এইচএসসি পরীক্ষাগুলো যেন হরতালের বাইরে রাখা হয়। তারা জানান রাজনীতি ও লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এবার সঠিক সময় সঠিক ভাবে পরীক্ষাগুলো দিতে পারবে কি না তা নিয়ে তারা সংশয়ে রয়েছেন।
চলতি বছর বরিশাল বোর্ডের অধিন এইচএসসি পরীক্ষায় ২৬৫টি কলেজের ৫২ হাজার ৮০৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে। ঐ সকল পরীক্ষার্থীরা ৮৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্নের লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে ৬ সদস্য বিশিষ্ট ১২টি ভিজিলেন্স টিম। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে বরিশালে ৩০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ১৮ হাজার ৯৯০ জন। এদের মধ্যে বিজ্ঞানে ২ হাজার ৩৪২ জন, মানবিকে ছাত্র ৯ হাজার ২০৩ ও ব্যবসা শিক্ষায় ছাত্র ৭ হাজার ৪৪৫। পটুয়াখালী জেলায় ১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ৯হাজার ৮০১ জন। এ জেলায় বিজ্ঞানে ১১৪৬ জন, মানবিকে ছাত্র ৫ হাজার ৮৮১ ব্যবসা শিক্ষায় ছাত্র ২ হাজার ৭৭৪ জন।  বরগুনার ৯টি কেন্দ্রে ৫ হাজার ৮৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞানে ৬০৯ জন, মানবিকে ৩ হাজার ৩৪৫, ব্যবসায় ১ হাজার ৮৯০ জন। পিরোজপুর জেলায় ৬ হাজার ৯৯৩ পরীক্ষার্থী ১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে। ভোলার ১০টি কেন্দ্রে ৬ হাজার ৮৭০ পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। ঝালকাঠীর ৯টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৩০৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেবে।
বরিশাল শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শাহ মুহাম্মদ আলমগীর জানান পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।