হার্ট এ্যাটাক ও বয়স

ডাঃ মোঃ আল-আমিন । অনেকেই মনে করেন পুরুষের চেয়ে মহিলাদের হার্ট এ্যাটাকের ঝুকি কম। কিন্তু করোনারি কেয়ার ইউনিটে গেলে দেখা যায়, সেখানে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা কম নয়। দেখা যায় প্রায় সবার বয়সই পঞ্চাশের উপরে। তবে একথাও সত্য যে পুরুষের হার্ট এ্যাটাক নারীর চেয়ে বেশি হয়। আসলে এ ক্ষেত্রে পুরুষ বা নারী বলে আলাদা কোনো পার্থক্য নেই। উভয়ই সমান ঝুঁকিতে থাকেন। হার্ট এ্যাটাক হওয়ার অনেক কারণ আছে, কিছু কারণ সংশোধনযোগ্য। অর্থাৎ যে সকল কারণে হার্ট এ্যাটাক হচ্ছে, তা দূর করতে পারলে হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি থাকবে না। আবার কিছু কারন আছে যা সংশোধন করা যায় না। যেমন-বয়স। বয়স তো হৃদরোগের অন্যতম কারণ। বয়স তো আর আটকানো যায় না। ছেলেবেলায় হার্ট এ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা নেই বললেই চলে। তবে ইদানিং বিভিন্ন কারণে ৩০ বছর বয়সের পরেই হার্ট এ্যাটাক হচ্ছে। ৩০ থেকে ৪৫ বছর বয়সের মধ্যে দেখা যায়, নারীর চেয়ে পুরুষেরাই বেশি হার্ট এ্যাটাকে আক্রান্ত হন। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে,আনুপাতিকহারে দুজন পুরুষের বিপরীতে একজন নারী আক্রান্ত হচ্ছেন। পুরুষের ক্ষেত্রে ৪৫ বছর বয়স আর নারীর ক্ষেত্রে ৫৫ বছর বয়সের পর হার্ট এ্যাটাকের আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়।  নারীর হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি প্রথম জীবনে পুরুষের চেয়ে কম হলেও তা সারা জীবনের জন্য নয়। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, মেনোপজ হওয়ার আগ পর্যন্ত মেয়েদের হৃদরোগের ঝুঁকি কম থাকে, কিন্তু এর পর থেকেই ঝুঁকি ক্রমেই বাড়তে থাকে। যতই বয়স বাড়ে, ততই ঝুঁকি বাড়ে। ঠিক পুরুষের মতোই। বর্তমান গবেষণায় বলা হচ্ছে, নারীর মৃত্যুর বড় কারণ হচ্ছে পুরুষের মতোই হার্ট এ্যাটাক।
বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন, নারীকে নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত হার্ট এ্যাটাক থেকে রক্ষা করে প্রাকৃতিক কিছু উপাদান। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইসট্রোজেন হরমোন। মেনোপজ হওয়ার আগ পর্যন্ত এ হরমোন মেয়েদের রক্তে উচ্চমাত্রায় থাকে। তাতে হার্টের করোনারি ধমনিতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় না বা এসব ক্ষতিকর পদার্থের চলাচল সীমিত রাখে। ধমনিগুলো প্রসারিত রাখে। রক্ত জমাট বাঁধে না, তাই চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে না। হার্টে রক্ত প্রবাহিত হয় অবিরাম। কিন্তু মেনোপজের পর রক্তে ইসট্রোজেন হরমোন কমে যায়। রক্তের প্রাকৃতিক নিরাপত্তার অভাব ঘটে। হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকিও বাড়ে। ৫৫ বছর বয়সের পর তাই নারী-পুরুষ উভয়ই
সমানভাবেই হার্ট এ্যাটাকে আক্রান্ত হতে পারেন।