হিরনের কফিনে ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ॥ শোকে স্তব্দ বরিশালবাসী

বরিশাল টুডে ॥ বরিশালের সাবেক সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর আসনের সংসদ সদস্য শওকত হোসেন হিরনের কফিনে পুস্পস্তবক অর্পন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, শিল্প মন্ত্রী আমির হোসেন আমু সহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তার লাশ হেলিকপ্টার যোগে এখানে নিয়ে আসা হবে। বঙ্গন্ধু উদ্যানে হেলিক্টার থেকে তার লাশ নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে পৈত্রিক নিবাস আলেকান্দার হিরন পয়েন্টে। সেখান থেকে শুক্রবার সকালে তার লাশ নগরীর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে সোহেল চত্বরে সর্ব সাধারনের দেখার জন্য রাখা হবে। দুপুর আড়াইটায় বঙ্গবন্ধু উদ্যানে তার নামাজে জানাযা শেষে নগরীর মুসলিম গোরস্থানে মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।

প্রসঙ্গত ঃ ব্রেন স্টোকের পর টানা ১৮ দিন লাইফসাপোর্টে থাকা বরিশালের সাবেক সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরন সকাল ৭ টায় ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন ( ইনালিল্লাহি…রাজিউন)।  মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৫৮ বছর। তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।
হিরনের এই অকাল প্রয়ানের খবর এখানে পৌছার পর বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চল জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ তার মৃত্যুতে ৭ দিনের এবং সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ৩ দিনের শোক কর্মসূচী ঘোষনা করা হয়েছে।

গত ২২ মার্চ রাত ১০ টায় আকস্মিক ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মেঝেতে পরে যান। তাৎক্ষণিক তাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঐ রাতেই তাকে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে স্থান্তর করা হয়। সেখানে তার মস্তিস্কে ‘ডিকমপ্রেসিভ ক্রানেকটমি’ নামে একটি অস্ত্রোপাচার করা হয়। গত ২৪ মার্চ রাতে এমপি হিরনকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার গ্লেনঈগলস হাসপাতালে ২৫ মার্চ তার মাথায় আরো একটি অস্ত্রোপাচার করা হয়। চিকিৎসায় তার অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় গত ৩ এপ্রিল গভীররাতে ঢাকায় ফিরিয়ে এনে পুনরায় এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 শোকে স্তব্দ বরিশাল
 টানা ৫ বছর বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র থাকাকালীন সময় ৫৮ বর্গ কিলোমিটর এ নগরীকে আধুনিক নগরীতে রুপ দিয়ে ছিলেন শওকত হোসেন হিরন। পুরো সিটি এলাকা যেন চিত্র শিল্পীর আকা ছবির মত মনমুগ্ধকর করে গড়ে তুলতে সক্ষম হন। নগরীর বাইরে দক্ষিন জনপদের উন্নয়নে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রত্যন্ত অঞ্চল। মানুষের হৃদয়ের স্থান করে নিয়েছিলেন এ উদীয়মান রাজনীতিবিদ। তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়াকে মেনে নিতে পারছেন না কেউ। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনতাই শোকে কিং কর্তব্য বিমূঢ় হয়ে পরেছেন।
লাখো মানুষ কাঁদিয়ে এ ভাবে তার না ফেরার দেশে চলে যাওয়াকে মেনে নিতে পারছেন না কেউ।  তার মৃত্যু সংবাদ বরিশালে পৌঁছা মাত্র অনেকটা স্তব্ধ হয়ে পড়ে কর্মচাঞ্চল্যের এ নগরী। দলীয় নেতা কর্মী ও শুভান্যুধায়ীরা নগরীর আলেকান্দায় তার বাস ভবন ও দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন।

৭ দিনের শোক কর্মসূচী
মহানগর আওয়ামী লীগ ৭ দিন ব্যাপী শোক কর্মসূচী ঘোষনা করেছেন। গতকাল বুধবার সোহেল চত্বরে দলীয় কার্যালয়ে এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজালুল করিম।
সভায় দলীয় অফিসসহ সব ওয়ার্ডে কুরআন খানি ও দোয়া-মোনাজাত আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়াও তারা আজ বৃহস্পতিবার থেকে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে কালো পতাকা উত্তোলন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল চেম্বর অব কর্মাসের সভাপতি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু।
এ ছাড়াও কালো ব্যাজ ধারন, দোয়া মোনাজাত, শোক সভা ও স্মরন সভা সহ নানান কর্মসূচী পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হিরনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি, সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মোহম্মদ ইউনুচ এমপি, অগ্রনী ব্যাংকের পরিচালক এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, বরিশাল প্রেসক্লাব, আইনজীবি সমিতি, শিক্ষক সমিতি, সাংস্কৃতিক সংগঠন সম্বনয় পরিষদ সহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ।

হিরনের কফিন সঙ্গী হচ্ছেন যারা–
বরিশালের সাবেক সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরনের লাশবাহী হেলিকপ্টারে সঙ্গী হয়ে আসছেন ৪ জন। বৃহস্পতিবার ছেলে শাজিদ হোসেনের এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হলেই হিরনের লাশ নিয়ে একটি সরকারী হেলিকপ্টার বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে। হেলিকপ্টারে শাজিদ ছাড়াও হিরনের স্ত্রী জেবুনেচ্ছা আফরোজ ও মেয়ে রোশনী হোসেন তৃনা আসবেন। অপর একটি ভাড়া করা হেলিকপ্টারে আসার কথা রয়েছে জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, জাপা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, অগ্রনী ব্যাংকের পরিচালক এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার ও ফায়াজুল হক রাজুর।