নৌকা

রেশমা ইয়াসমিন ॥ নৌকা হচ্ছে বাঙালি জাতির নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বাহক। বঙ্গদেশের নৌকার রয়েছে হরেক রকম নাম। নামগুলো যেমনি বৈচিত্র্যময়  তেমনি শ্রুতিমধুরও। নামগুলো যথাক্রমে কাথালি, কারপাই, কেরাই, কবিতী, কোষা, পিনাশ, পাতাম, পানসি, পদি, পোলোয়ারি, পটোল, বাছারি, বারকি, বজরা, বেদি, বাইচ, টেডি বালাম, ঘাসী, মালার, মেলি, জোড়া নৌকা, সাম্পান, হরোঙ্গা, ময়ূরপঙ্খী, ছিপ, গয়না, ডিঙ্গি, তাবোড়ি, বাজিপুরী, উবরী, জৈন্তাপুরী, লক্ষ্মী বিলাস ইত্যাদি।

এক সময়ে এ নামের নৌকাগুলো দেশের নদী-উপনদী কিংবা হাওর-বাঁওড়, খাল-বিলে অহরহ ভাসতে দেখা যেত। যখন বর্ষার মৌসুমে রাস্তাঘাট তলিয়ে যেত তখন গাঁয়ের বধূদের যাতায়াতের একমাত্র বাহন ছিল নৌকা। ওই সময়ে নৌকায় চড়ে ‘নাইওর’ যাতায়াতের প্রচলন ছিল ব্যাপক। ধনাঢ্য ব্যক্তিদের। নৌকার আকার-আকৃতি, সাজগোছ ছিল ভিন্নতর। দূর থেকে ওই নৌকাগুলো নজরে পড়লে মানুষ বুঝে নিতে সক্ষম হতেন যে সমাজের উঁচু শ্রেণীর কেউ ওই নৌকার যাত্রী। সেই সময়ে বাহারি নৌকায় (বজরা নৌকা) চড়ে নদীপথে ঘুরে বেড়াতেন আমাদের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ঘুরে বেড়াতেন সাধক লালন শাহও। মাঝিমাল্লারা হাতে দাঁড়টেনে নৌকা চালাতেন। নৌকার গতি বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হতো ‘পাল’। পাল হচ্ছে রঙিন কাপড়ের বড়সড় চাদর। বিভিন্ন ধরনের রঙিন কাপড় জোড়া লাগিয়ে এটি নৌকায় টানিয়ে দেয়া হতো। পালে বাতাস লেগে নৌকা তখন তরতর করে সামনে এগুত। ইঞ্জিনচালিত লঞ্চের দাপটে এ ধরনের কাঠের তৈরি নৌকা হারিয়ে যেতে বসেছে আজকাল। তা ছাড়া এসব বাহন ধীরগতির হওয়ায় যাত্রীরা এতে সওয়ার হচ্ছেন না আজকাল।
বর্তমানে কাঠের নৌকা অঞ্চলভেদে দৃষ্টিগোচর হলেও পাল তোলা নৌকা খুব একটা দেখা যায় না। কালেভদ্রে দেখা মেলে।