স্টিমার সার্ভিস চালু, বিমানের ফ্লাইট বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

স্টিমার সার্ভিস চালু, বিমানের ফ্লাইট বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি
স্টাফ রিপোর্টার ॥
অবিলম্বে বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল নৌপথে রাষ্ট্রীয় স্টিমার সার্ভিস পুণঃ প্রবর্তন সহ বিভিন্ন দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় বরিশাল বিভাগ উন্নয়ণ ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে বরিশাল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। বরিশাল বিভাগ উন্নয়ণ ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান রাজন জানান, ঈদের পূর্বে রাষ্ট্রীয় স্টিমার সার্ভিস পুনঃপ্রবর্তন, ঈদ পরবর্তি সময়ে বরিশালে সেক্টরে আরো অন্তত দুটি বিশেষ ফ্লাইট প্রদান সহ নিয়মিত বিমান ফ্লাইট পরিচালন, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত, ছয়লেন সড়ক দ্রুততম সময়ে শুরু করা, অসমাপ্ত নেহালগঞ্জ ও গোমা সেতু দ্রুততম সময়ে শেষ করার দাবি জানানো হয়েছে। এসময় বরিশাল বিমান বাংলাদেশ এর বরিশাল অফিসের মাধ্যমে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রনালয়, সড়ক জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর মাধ্যমে সড়ক ও সেতু বিভাগের মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে বিভাগ উন্নয়ণ ও স্বার্থ সংরক্ষ কমিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, আসন্ন ঈদ উল ফিতরের আগে ও পরে রাজধানী ঢাকা এবং বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলে অন্তত ১০ লাখ মানুষ যাতায়াত করবে। কিন্তু অত্যন্ত দূর্ভাগ্যজনক ভাবে রাষ্ট্রীয় নৌ বানিজ্য প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি এবারের ঈদেও কোন যাত্রীবাহী নৌযান ঢাকা-চাঁদপুর-বরিশাল-ঝালকাঠী-পিরোজপুর-বাগেরহাট রুটে পরিচালনা করছে না। নেতৃবৃন্দ বলেন, বরিশাল সেক্টরে নিয়মিত জাতীয় পতাকাবাহী বিমান ফ্লাইট পরিচালন দক্ষিণাঞ্চল বাসীর দীর্ঘ দিনের দাবী। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল নানা কৌশলে তা এড়িয়ে যাচ্ছে। বিগত ৩০ বছরে বিমান কর্তৃপক্ষ কখনোই বরিশাল সেক্টরে যাত্রী বান্ধব সময়সূচী সহ জনগনের চাহিদা ও দাবীর মূল্যায়ন করেনি। আসন্ন ঈদের আগে বরিশাল সেক্টরে ৩দিন বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিমান কর্তৃপক্ষ। কিন্ত ঈদের পরে মাত্র ১টি বিশেষ ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহনের ঘোষনা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় এ আকাশ পরিবহন সংস্থাটি। জনস্বার্থে ঈদের আগের মতো ঈদের পরে ২৩, ২৪ ও ২৫ মার্চ বরিশাল সেক্টরে বিমান’র বিশেষ ফ্লাইট প্রদানের দাবী জানানো হয়েছে। বরিশাল সেক্টরে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালন ছাড়াও চট্টগ্রাম-বরিশাল-যশোর রুটে সপ্তাহে অন্তত দুদিন ফ্লাইট চালু করারও দাবী জানাচ্ছি। এতে করে দেশের ৩টি উপকূলীয় বিভাগের মধ্যে আকাশ পরিসেবা চালু হবে। ফলে এ ৩টি বিভাগের মধ্যে যাতায়াতও সহজতর হবে। এছাড়াও ভাংগা-বরিশালÑকুয়াকাটা রেল লাইন নির্মান প্রকল্পের ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দরÑকুয়াকাটা পর্যন্ত ২১১ কিলোমিটার দীর্ঘ রেল লাইন নির্মান প্রকল্পটির এলাইনমেন্ট সহ সম্ভাব্যতা সমিক্ষা, টেন্ডার ডকুমেন্ট এবং পরিপূর্ণ নকশা প্রনয়নের কাজ ইতোপূর্বে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পটির জন্য অর্থের সংস্থান সহ পরবর্তি প্রক্রিয়া অনেকটাই স্থবির হয়ে আছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, বিষয়টি নিয়ে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহনের কোন বিকল্প নেই। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দাতা সংগ্রহ সহ তা পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের ওপরই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ভর করছে। প্রকল্পটির জন্য ইতোপূর্বে সৌদি আরব ও চীন সরকার আগ্রহ প্রকাশ করলেও বিগত সরকারের অনাগ্রহে আর কোন অগ্রগতি হয়নি। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও উত্তরবঙ্গের সাথে বরিশাল বিভাগীয় সদর সহ পায়রা বন্দর ও সাগর সৈকত কুয়াকাটার রেল সংযোগ স্থাপিত হতে পারে। ফরিদপুরÑবরিশালÑকুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরন প্রকল্প বাস্তবায়নেরও দাবী জানানো হয়েছে। পদ্মা সেতু চালু হবার পরে ফরিদপুরের ভাংগা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল তিনগুনেরর বেশী বৃদ্ধি পাওয়ায় বরিশাল-ভাংগা অংশে যানযট সহ দূর্ঘটনা নিত্যকার ঘটনায় পরিনত হয়েছে। পদ্মা সেতুর নির্মান কাজ শুরুর আগেই ফরিদপুরÑবরিশালÑকুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হলেও গত এক যুগেও তার খুব একটা অগ্রগতি হয়নি।
স্মারকলিপি গ্রহণ কালে বরিশাল জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন জানান, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দাবিনামা দ্রুত মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেব যাতে করে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়া যায়। স্মারকলিপি প্রদানকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মিজানুর রহমান, প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, সহ-সভাপতি দেওয়ান আঃ রশিদ নিলু, সিনিয়র সাংবাদিক নাছিম উল আলম, সংগঠক দীপু হাফিজুর রহমান প্রমূখ।